বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি২০ সিরিজ : জমিন খোঁজার লড়াই

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-০৯ ১৩:২৯:১৯
image

টি২০-তে চারটি দেশের বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এটুকু তথ্যে আপনি চাইলে উত্ফুল্ল হতে পারেন। কিন্তু সেই চারটি দেশের নাম শুনলে পরের মুহূর্তে আপনি দমে যাবেন। দলগুলো হলো কেনিয়া, ওমান, নেপাল ও আরব আমিরাত। তবে প্রত্যেকটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র একটি করে ম্যাচ। এমনকি নেদারল্যান্ডসের মতো ক্রিকেট ভূখণ্ডে অপরিচিত দলটিও তিন ম্যাচ খেলে বাংলাদেশকে হারিয়েছে একটিতে। টি২০-তে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশের বেশি জয় আছে তিনটি দলের বিপক্ষে। সে দলগুলোও বড় কোনো নাম নয়। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ে। এ তিন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের হার যথাক্রমে ৭৫, ৬৬.৬৬ ও ৬৩.৬৩। আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। দলটির বিপক্ষে ৬ ম্যাচের ৪টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ।

 

এছাড়া ৫টি দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই। যেখানে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আছে হংকং ও স্কটল্যান্ডের পুঁচকে দলও। এতটুকু চিত্রই টি২০-তে বাংলাদেশের দৈন্য তুলে ধরতে যথেষ্ট। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে ১১ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২ ম্যাচ খেলে জয় ২টি এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে ১১ ম্যাচের ৪টিতে জিতেছে বাংলাদেশ।

 

বিশ্বকাপ এখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এ প্রতিযোগিতা সামনে রেখে এখন প্রস্তুত হওয়ার সময় বাংলাদেশের। কিন্তু উপরে যে চিত্র দেখানো হয়েছে, মোটেই ভালো কোনো বার্তা দেয় না। ভিন্ন কন্ডিশনে তো বটেই নিজেদের কন্ডিশনেই এ ফরম্যাটে ধুঁকতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেও নেই কোনো জয়। এখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ শুরু হতে যাওয়া সিরিজে জয়ের পাশাপাশি পায়ের নিচের মাটিও খুঁজে নিতে হবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপের আগে দাপটের সঙ্গে নিজেদের শক্তির জানানও দিতে হবে।

 

টেস্ট ও টি২০-তে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে এখন অবশ্য বেশ ফুরফুরে অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। টি২০-তেও সমর্থকদের প্রত্যাশা টাইগারদের দাপুটে জয়। কিন্তু টি২০ বলেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে স্বাগতিকদের। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের কথা শুনলেই স্পষ্ট হবে কেন এ ফরম্যাটে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার, ‘আমি মনে করি আমরা জিততে পারি। দুই বলেই টি২০-তে ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে। এখানে যেকোনো কিছু হতে পারে।’ টি২০-র লড়াইটাই এমন। এখানে যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের চিত্র। আর এ লড়াইয়ে অনেকবার জয়ের কাছাকাছি গিয়ে মোমেন্টাম হারিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। তাই সেসব ভুল শুধরে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ টাইগারদের।

 

এর আগে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এ দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রাস্তা খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। তামিম এখন ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বও পেয়েছেন। তাই দায়িত্বও বেড়েছে অনেক। টি২০-তে তামিমের স্ট্রাইক রেট নিয়েও আছে সমালোচনা। কিন্তু সেসব দূর করতে ইনফর্ম তামিম এ সিরিজকেই পাখির চোখ করবেন। অবশ্য তামিমকে নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না বলেও জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘তামিমের স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, ও যদি ওর মতো ব্যাট করতে পারে, তবে এ সিরিজেও সেঞ্চুরি পেতে পারে। ওকে নিয়ে আমি চিন্তিত নই। তামিম খুবই ভালো ছন্দে ব্যাটিং করছে।’ অন্যদিকে লিটন দাসের রানে ফেরাও অধিনায়ককে রেখেছে স্বস্তিতে, ‘লিটনের সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। ও যেভাবে ব্যাট করেছে, তা খুবই দারুণ ছিল এবং দৃষ্টিনন্দনও ছিল। আশা করি, সে এটা ধরে রাখবে।’

 

পাশাপাশি চোট কাটিয়ে অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিনের ফিরে আসাও স্বাগতিকদের জন্য সুখবর। বল হাতে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ পারফর্মও করেছেন এ পেসার। এখন টি২০ ফরম্যাটে তার জ্বলে ওঠার অপেক্ষা। আর এ সিরিজে দলীয়ভাবে বাংলাদেশের লক্ষ্য, টি২০-তেও শতভাগ জয় নিয়ে জিম্বাবুয়ে পর্ব শেষ করার।