মেয়াদ শেষ হলেও সরকারি গাড়িতে অফিস করছেন ডিএফপি ডিজি

  • Abashan
  • ২০২০-০২-২৫ ১৭:১৩:৪০
image

সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এরপর এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে কাজ করার সুযোগ পেলেন। সেই চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ। চলে যাওয়ার কথা অবসরে। কিন্তু চেয়ারের মায়া ছাড়তে পারছেন না চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একই পদ থেকে অবসরে যান তিনি। এরপর তার অভোগকৃত ছুটি বাতিল করে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল অভোগকৃত ছুটি বাতিল করে ১ জানুয়ারি অথবা যোগদানের তারিখ হতে পরবর্তী এক বছরের জন্য চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরে মোহাম্মদ ইসতাক হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক পদটি এই মুহূর্তে শূন্য রয়েছে। পরবর্তী নিয়োগ বা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি না করা হলে বর্তমান ডিজির অফিস করার কথা নয়। কিন্তু তারপরেও তিনি নিয়মিতভাবে অফিসের গাড়িসহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এর আগেও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে অবসরে গেলেও অন্তবর্তীকালীন সময়ে অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আগে পেছনের তারিখে ফাইল স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি অফিসের গাড়ি ব্যবহার করে নিয়মিত অফিস করেছেন। ওই অধিদফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারা এসব তথ্য জানান। এবারও তাই করছেন বলে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা গেছে।

 

এনিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে মৃদু আলোচনা ওই পদে আসলে কত মধু। ডিজি স্যারের মেয়াদ শেষ হলেও চেয়ার ছাড়ছেন না। এখানে হয়তো বিশেষ সুযোগ সুবিধার জন্যই বসে আছেন। সংবাদপত্রের ডিক্লিয়ারেশন, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্র এই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন। তার মেয়াদকালে সংবাদপত্রের ডিএফপিভুক্ত হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সার্কুলেশন না থাকলেও অনেক পত্রিকার অনুমোদন দিয়ে ওয়েজ বোর্ডের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

 

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অফিস করার বিষয়ে ডিএফপি মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, অফিস করার কথা না। এখন কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে হয়। অন্যথায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অফিস করার কথা নয়। তবে অফিস করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। পেছনের তারিখে ফাইল স্বাক্ষর করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেছনের তারিখে না, আমার কিছু কাজ ছিল সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসলে আমার অফিস করার কথা না।

 

এদিকে ওই অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবারেও (২৫ ফেব্রুয়ারি) মহাপরিচালক বেশ কিছু ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন যা ১২ ফেব্রুয়ারির তারিখ দিয়ে। পেছনের তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধিদফতরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।