সভ্য দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের বেসিক পার্থক্য

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০৮ ১২:৪০:২৩
image

সভ্য দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের বেসিক পার্থক্য হল, ওদের মধ্যে যে যত পাওয়ারফুল বা সম্পদশালী, সে তত বিনয়ী, তত নিরহঙ্কারি। আমাদের দেশে মাত্র দুইদিন আগের ফকিরের হাতে পায়সা বা ক্ষমতা গেলে চোখের দিকে তাকানো যায় না। এমনকি দুজনের দুই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছোটবেলার বন্ধুত্বও ভেঙে যায়।


একটি গল্প বলি: জার্মানিতে একদিন আমি একটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম লিফট নেওয়ার জন্য। কয়েকটি গাড়িকে ইশারা দেওয়ার পর একটি লাল রঙের গাড়ি পাশে এসে দাঁড়ালো। ড্রাইভিং সিটে বসা লোকটির বয়স ৪০-৪৫ হবে। জানালার কাচ নামিয়ে বললেন, গুডন টাগ(শুভদিন), আপনি কোথায় যাবেন?


আমি মাইল চল্লিশের দূরের গন্তব্যের কথা বলায় তিনি বললেন, উঠে পড়ুন, আমিও সেখানে যাচ্ছি। গাড়িতে উঠে তাকে জার্মান ভাষায় ধন্যবাদ জানালাম। শুরু হলো আলাপচারিতা আমার ভাঙা ইংরেজি, ভাঙা জার্মান ভাষায়। আমি এক পর্যায়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কী করেন?


তিনি খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলেন, আমি ওই এলাকার জেলা প্রশাসক। আমি থতমত খেয়ে গেলাম। বাঙালি মনে একবার উদয় হলো যে ‘এহ্‌, চাপা মারতেছে!’ আবার মনে হলো, না লোকটার কথা, আচরণ চাপা মারার মত না। অবশেষে তিনি শহরে ঢুকে বললেন, আপনি কোথায় নামবেন?


আমি ডাউনটাউনের কথা বলতে তিনি বললেন, ওখানেই আমার অফিস। তিনি আমাকে তার অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। আমি তার সঙ্গে গেলাম। চারতলা ভবনের দোতালায় তার কক্ষে নিয়ে গেলেন। নিজের হাতে দু-কাপ চা বানিয়ে এনে সামনে রাখতে রাখতে বললেন, ‘আসাম টি। সম্ভবত আপনাদের এলাকারই।’


বললাম, ‘হ্যা, আমাদের এলাকাই। ১৯৪৭ সালে ভাগ হয়ে ভারতে গিয়ে পড়েছে।’ চা খেয়ে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। বন্ধুরা, কোনোদিন কি আপনার দেশটি এমন হবে যে একজন রহিঙ্গাকে (জার্মানদের তুলনায় সেদেশে আমরা তো রহিঙ্গাই)৪০ মাইল দূরে লিফট দিয়ে একজন জেলা প্রশাসক অফিসে নিয়ে চা খাইয়ে বিদায় দিচ্ছেন? ওই দেশে আমার অনেক নিকটাত্মীয় থাকে। আমার সন্তানতূল্য প্রাণপ্রিয় ভাতিজি দুই সন্তান নিয়ে থাকে। মনে প্রাণে কামনা করি, ওরা যেন জার্মান কালচার রপ্ত করতে পারে!