উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার ঘটনায় ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত

  • Abashan
  • ২০২০-০১-১৪ ১৫:৪১:০৮
image

ইরানি সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।গতকাল তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তায় মুখোমুখি অবস্থান করছে বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গা পুলিশ। খবর রয়টার্স।

 

এর আগের দুদিনে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়। ক্ষুব্ধ জনগণকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। অনেক স্থানেই কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। তবে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তেহরান পুলিশের হোসেইন রাহিমি বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর নিশ্চিতভাবেই গুলি চালায়নি। কারণ রাজধানীর পুলিশকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে।

 

এদিকে ১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামী বিপ্লবের পর এমন বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কে নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে। চলমান এ আন্দোলনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে লেখেন, দয়া করে আপনার দেশের বিক্ষোভকারীদের হত্যা করবেন না। উল্লেখ্য, গত বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ১৭৬ যাত্রী নিয়ে বিধ্বস্ত ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি ভুলক্রমে ভূপাতিত করে দেশটির সেনাবাহিনী।

 

শুরু থেকে অস্বীকার করলেও নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। উড়োজাহাজের নিহত ১৭৬ আরোহীর মধ্যে কানাডার নাগরিক ছিলেন ৫৭ জন। ইরানের নাগরিক মারা যান ৮২ জন। বিষয়টি স্বীকার করার পর গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের আজাদি স্কয়ারে বিক্ষোভ এলাকার খুব কাছ থেকে গুলি করছে পুলিশ। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বন্দুক নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

 

অন্য আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। তখন আশপাশের লোকজন তাদের না মারার জন্য চিত্কার করছিল। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেকে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে উদ্দেশ করে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে তারা দেশটির ধর্মীয় শাসনের প্রতিও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। গতকাল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীরা ‘তারা আমাদের মেধাবীদের মেরে ফেলেছে, ফিরিয়ে দিয়েছে ধর্মীয় শাসন’ এমন স্লোগানও দেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে করে যেসব ইরানি শিক্ষার্থী কানাডায় পড়তে যাচ্ছিলেন, তাদের উপলক্ষ করেই এ স্লোগান দেয়া হয়।