বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

আসন্ন বাজেটে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারণ করতেই হবে: ওয়েবিনারে বক্তারা

  • জাতীয় প্রতিবেদক
  • ২০২০-০৫-২৩ ১২:৪৭:২৯
image

২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার লোকের অকালমৃত্যু হয়েছে যা এ সময়ে সকল মৃত্যুর ১৩.৫ শতাংশ, পাশাপাশি তামাক জনিত ব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে যা বিগত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ১.৪ শতাংশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় (২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গঠন) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিগারেটের উপর উচ্চহারে করারোপসহ বিগত ৫বছর ধরে সিগারেটের নূন্যতম মূল্য বাড়িয়ে চলেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সিগারেটের ব্যবহার কমতে থাকবে এবং সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি সুফল পাবে। তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহের দাবী ও সরকারের সদিচ্ছার ফলে গতবছর সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিন্ম মূল্য ৩৭টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সরকার সিগারেটের করকাঠামোর জটিল স্তরপ্রথা (লো, মিডিয়াম, হাই, প্রিমিয়াম) বাতিল করার জন্যও সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাতের মতে, পর্যায়ক্রমে সিগারেটের করস্তরকে বিলুপ্ত করে সকল সিগারেটের জন্য একটি সরল ও কার্যকর একস্থর করব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের দেয়া তথ্যমতে, তামাকের মূল্য ১০শতাংশ বৃদ্ধি করস্রেনির নিম্ন শ্রেণীর ভোক্তাদের ব্যবহারের হার ৫শতাংশ হ্রাস পায়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও এলায়েন্স ফর এফসিটিসি ইমপ্লিমেন্টেশন বাংলাদেশ (এএফআইবি) প্রতি বছরের ন্যায় নিম্ন শ্রেণীর তামাকসেবীর (মোট ধূমপায়ীর ৭২ শংতাংশের অধিক) জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন বাজেটে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৪৭ টাকা নির্ধারণ এবং সিগারেটের করকাঠামোর ৪ স্তরকে কমিয়ে ৩ স্তরে আনা, তামাকের উপর উচ্চাহারে করারোপ এবং ৫শতাংশ স্পেসিফিক ট্যাক্স আরোপের জোরালো দাবী জানায়। বুধবার (১৯ মে ২০২০) সন্ধা ৭:৩০টায় এএফআইবি কর্তৃক আয়োজিত ওয়েবিনারে তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সকল দাবী উত্থাপন করেন।

স্বচ্ছ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুমন শেখের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিন এশীয় অঞ্চলের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং এলায়েন্স ফর এফসিটিসি ইমপ্লিমেন্টেশন বাংলাদেশ (এএফআইবি) এর মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মোজাহেরুল হক। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের অনারারী বোর্ড অব ট্রাস্টি এম রফিকুল ইসলাম মিলন, এএফআইবি সদস্য সচিব ও নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, বাংলাদেশ হেল্থ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাব্বি, এলআরবি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা রাজিয়া শিলা, জনস্বার্থ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডিএম সাকলায়েন। এএফআইবি’র সদস্য সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে বিভাগীয় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হন ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক স্ব-জীব সোসাইটির মুখপাত্র আইনুল হক, খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক ও নাইস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম মুজিবুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক ও রুডো রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক মোঃ সোহাগ আলী প্রমুখ।

ওয়েবিনারে বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে পুরো দেশ গৃহবন্ধী থাকাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে মৃত্যু বিপননকারী তামাক কোম্পানীগুলোর বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের কতিপয় কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজোশে কমদামী সিগারেটের জন্য চলমান সর্বনিম্ন স্তরের (প্রতি ১০ শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ৩৭টাকা) নিচেও আরো একটি নতুন স্তর চালুর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেখানে সরকার তামাকের ব্যবহার কমাতে প্রতিবছর সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য বৃদ্ধি করে চলছে সেখানে নতুন আরো একটি স্তর চালুকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি। এ ধরণের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শক্তিশালীভাবে ব্যাহত হবে।


এ জাতীয় আরো খবর