শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০

কাঁঠালেই রয়েছে করোনা মুক্তি

  • জাতীয় প্রতিবেদক
  • ২০২০-০৫-০২ ০১:১৬:১০
image

মো. নজরুল ইসলাম:
গোলাকার পৃথিবীতে গোলাকার কাঁঠাল কেবলই আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের বিশষত ভারত- বাংলাদেশে ও শ্রীলঙ্কাসহ তার পাশ^বর্তী এলাকাসমুহে কাঁঠালের উৎপত্তিস্থল বলে বিবেচিত হয়। বাংলা, বিহার, আসাম, মালয়, দক্ষিণভারত প্রভিতি এলাকা ছারা বিশে^র কোথাও এর ব্যাপক ফলন লক্ষ করা যায় না। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা, ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় আমাদের এ্ধসঢ়;ই সোনার বাংলাদেশের সকল এলাকাতেই কাঁঠলের উৎপাদন হলেও দেশের উচুঁ ও লালচে মাটির এলাকায় এর ফলন ভালো। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এর মধুপুর ভাওয়ালের গড় ও পার্বত্য এলাকায় বানিজ্যিকভাবে কাঁঠালের চাষ হয়।
কাঁঠাল সপুস্পক প্রজাতির উদ্বিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus। আমাদের জাতীয় ফল কাঠাঁলের মৌসুম এখন, এটিকে যৌগিক ফলও বলা হয়। ফুল একলৈঙ্গিক,সহবাসী গাছ বলে একই গাছে স্ত্রী ও পুরুস ফুল একসাথে ফোটে। পুস্পবিন্যাস প্রথমাবস্থায় দুটি মঞ্জুরী পত্র দ্বারা আবৃত্ত থাকে। পুস্পমুঞ্জুরী দেখতে ক্ষুদ্র কাঠাঁলের মত, এটিকে আবার মুঁিচ বলা হয়। সাধারনত বাতাসে পরাগায়ন হয়ে থাকে। পুরুষ মঞ্জুরী পরাগায়নের পর ঝড়ে পরে। স্ত্রী পুস্পমঞ্জুরীতে
সম্পুর্ণ পরাগায়ন হলে যৌগিক ফল কাঁঠালে পূর্ণতা পায়। এই রুপান্তরিত ফলই দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। গ্রীস্মকালে এই ফল পূর্ণতা পায় এবং পাখির ঠোকরেই
দেখা মিলে বাহারি স্বাদ ও গন্ধের পাকা ফলের। কাঁঠালের বেশ কিছু জাত রয়েছে।
আমাদের দেশের কাঠালকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। গালা/গলা- গাজা বা গজানো এছারাও চাউলা বা আদরশি কাঁঠালের দেখা মিলে। এছারাও আছে
রুদ্রাক্ষি, সিংগাপুর,সিলোন,বারোমাসি,গোলাপগন্ধা,চম্পাগন্ধা,পদ্মরাজ, হাজারি প্রভিতি। এতগুলো জাতের মধ্যে শুধুমাত্র হাজারি কাঁঠাল বাংলাদেশে আর বাকিগুলো ভারতে আছে।
কাঁঠালের পুস্টিগুণের নেই তুলনা। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে শক্তি রয়েছে ৩৯৭ কিজু,শর্করা ১৯.০৮ গ্রাম, ¯েœহ পদার্থ ০.৬৪ গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭২ গ্রাম রযেছে। এছারাও প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ রয়েছে। আরো আছে ভিটামিন বি,সি, ্ধসঢ়;ই ছারাও পর্যাপ্ত পরিমান রয়েছে ক্যালসিয়াম,লোহা,ম্যাঙ্গানিজ,ফসফরাস ও পটাশিয়াম।
কাঠাঁলের উপকারিতা: কাঠাঁলে প্রচুর পরিমান আমিষ,শর্করা ও ভিটামিন থাকায় মানব দেহের জন্য সেটি নগদ উপকার করে।কাঠালে চর্বির পরিমান ন্যিান্তই কম।
এই ফল খাওয়াতে ওজন বাড়ার আশংকা একেবারেই নেই। প্রচুর পরিমান পটাশিয়াম ও ভিটামিন এ রয়েছে। রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ও চক্ষু রোগে বেশ হিতকর। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন সি তৈরী হয় না। বিধায় কাঁঠালে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি থাকায় দাঁতের মাড়ি ও মুখের রোগে বেশ উপকারি।
কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্স থাকায় – আলসার, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুকি কম থাকে এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম। এই ফলে আছে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রিয়াডিকেলস থেকে রক্ষা করে।
এছাড়াও প্রচুর পরিমান আয়রন,লোহা ও জিংক থাকাতে ফুসফুসের প্রদাহ ও হাপাঁনি প্রতিরোধে সক্ষম। নিয়মিত কাঠাঁলের ফল, বিচি, ও বোতা তরকারিতে সেবন করলে শরীর এমনিতেই এন্টিবডি তৈরী হবে। এন্টিবডি হলে ঠান্ডা, কাশ ও সাধারন জ¦র শরীরে প্রবেশ করবে না, আর এগুলো প্রবেশ না করল্ধেসঢ়; কখনোই তার হাপানি, এজমা ও ফুসফুস প্রদাহ হবে না। তাই বর্তমান করোনাকালীন সময়ে এই ফল বেশি বেশি নিয়মিত খেলে করোনা রোগ শরীরে প্রবেশ করার আশংকা
একেবারেই কম।উল্লেখ্য যে করোনা হওয়ার পর কাঁঠাল খেলে করোনা সারবে বিষয়টি কিন্তু এরকম নয়। এই ফল টেনশন ও নার্ভাসনেস কমাতে বেশ কার্যকরি ত্ধাসঢ়; ই লকডাউনকালিন সময়ে ঘরে বসে কাঁঠাল খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই ফল বদহজম রোধ করে। এই গাছের শেকর সেদ্দ করলে যে উৎকৃষ্ট কাথ পাওয়া যায় সেটি হাপানি ও এজমা রোগের ভালো ওষুধ। চর্মরোগ,জ¦র ও ডায়রিয়া রোগে কাঁঠালের শেকড় বেশ কার্যকরি। এই ফলে বি-৬ থাকায় হৃদরোগের ঝুকি কমায়। ৬ মাস পর থেকে শিশুকে মায়ের দুধের পাশাপাশি কাঠালের রস খাওয়ালে শিশুর বুদ্ব্যি দ্রুুত ঘটে। গর্ভবতি মায়ের পাকা কাঠালে দুধের পরিমান বৃদ্ব্যি পায়। এই ফল আঁশালো হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাঠাঁল কাঁচা-পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। এই গাছের কাঠ বেশ শক্তিশালী ও সুন্দর র্বিধায় আসবাবপত্র তৈরীতে বেশ চাহিদা রয়েছে। কাঠালের পাতা ছাগলের প্রিয় খাবার। কাঠালের ভুচরা ও বতা গরুর প্রিয় খাবার । আবার ভুচরা দিয়ে জেলি তৈরী করা যায় এবং বতা রান্নায় ভালো
তরকারি।কাঁঠালের বিচি ভর্তা, ভাজি ও রান্নায় অতুলনীয়। মোট কথা কাঁঠালের কোন কিছুই ফেলনার নয়।
কাঁঠালের সামাজিক সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: মুলত দেশের আনাচে কানাচে সহজলভ্য প্রাপ্তি ও রসালো ফল হওয়ার কারনেই কাঁঠালকে জাতীয় ফলের
মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এছারাও আমকে ফলের রাজা ও জামকে ফলের সুধা বলা হয়।ভারতীয় আয়ুব্বেদ মতে আম, জাম, কাঁঠলকে ত্রিফল বলা হয়। এক সময় আমাদের লোকায়ত এই গ্রামীন সমাজ ছিলো যৌথ পরিবার, কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন সেটি ভেঙ্গে খান খান। একটি কাঁঠাল ১-২-৩ ও ৫ কেজী থেকে ৩০ কেজী পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজরে ছোট কাঁঠালের চাহিদা বেশি কারন পরিবার ছোট।
সাম্যবাদি লেখক ও গবেষক অধ্যাপক সরদার ফজলুর করিম স্যার কাঁঠালকে সাম্যবাদি ফল হিসেবে আখ্যায়িত করতেন।কারন কাঁঠাল ভাঙলে বেশিক্ষন রাখা যায় না,ফ্রিজে রাখলেও তার গুনাগুন ঠিক থাকে না, তাই সবাই মিলে একসাথে হয়ে পেটভরে খাওয়ার আনন্দই আলাদা, আর এট্ধাসঢ়;ই সমাজতন্ত্রের মুলমন্ত্র। আমাদের দেশ লোকায়ত সংস্কৃতির দেশ পূজা, পার্বন, মেলা, খেলা ও আত্মীয় বাড়ী বেড়াতে কাঁঠাল অতুলনীয়। বিভিন্ন স্থানে আশেকানরা ফলের মেলারও আয়োজন করে থাকে। প্রত্যেক বাড়িতে দুই একটি কাঠাঁল গাছ থাকলে অনেক ভালো। কারন বাড়ির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করা য়ায়,গরু ও ছাগলের খাবার হয়, কাঠ দিয়ে আসবাব তৈরী করা যায়। তাই এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয। আসুন জাতীয় ফল কাঁঠাল রোপন করি, জনসচেতনতায় এর উপকারিতা তুলে ধরি, নতুন প্রজন্মের প্রতি কাঁঠালের অনীহা ও ভীতি দূর করি। বেশি করে কাঁঠাল খাই ও প্রিয়জনকে কাঁঠাল উপহার দেই এবং সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকায় রাখি।


এ জাতীয় আরো খবর