শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০

সার্ক দেশগুলোতে কেন করোনা সংক্রমণ কম, গবেষণার দাবি বিশ্বব্যাংকের

  • আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
  • ২০২০-০৪-২০ ২২:৩৭:২০
image

ইউরোপ-আমেরিকাসহ গোটা বিশ্ব যেখানে নভেল করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোতে অবিশ্বাস্যভাবে সংক্রমণ কম। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’র তৈরি ওই রিপোর্টে বলা হয়, অধিক জনসংখ্যা সেই সঙ্গে ঘন জনবসতি হওয়া সত্ত্বেও গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের গতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই মন্থর। এর কারণ জানতে প্রয়োজন গবেষণা।
শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত বিশদ পরিসংখ্যান তুলে ধরে হয়েছে রিপোর্টটিতে।
জানা যায়, বিশ্বের মোট আক্রান্তের মাত্র ১১ শতাংশ ৮টি সার্কভুক্ত দেশের। জনঘনত্ব এখানে অনেক বেশি। পৃথিবীর মাত্র ৩ শতাংশ ভূখণ্ড জুড়ে থাকা এই দেশগুলোতে থাকে বিশ্বের ২১ শতাংশ মানুষ। তা সত্ত্বেও বিশ্বের মোট করোনা-মৃত্যুর ১ শতাংশেরও কম ঘটেছে এই ভূখণ্ডে।
দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে মোট জনসংখ্যার ৯.৫৪ শতাংশ করোনা পজিটিভ। বাংলাদেশে তা ১০.০৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি এতটাই ভালো যে আগামীকাল থেকে স্বাভাবিক জনজীবন শুরু হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। এই দ্বীপরাষ্ট্রে লকডাউন অনেকটাই শিথিল করে দেওয়া হবে। শ্রীলঙ্কায় এ পর্যন্ত ২৪৮ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৭। আরোগ্যের সংখ্যা গত এক সপ্তাহে অনেকটাই বেড়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এমনকি চীনেও এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে দ্রুত। কিন্তু ভারতসহ সার্কভুক্ত গোটা অঞ্চলেই এখনো পর্যন্ত ততটা দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়নি করোনাভাইরাসকে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে বা আরও স্পষ্ট হয়, তা হলে গোটা বিষয়টি আরও গভীর গবেষণার দাবি রাখে।
রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলির তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণের গতি ‘মন্থর’ মনে হওয়ার অন্যতম কারণ অবশ্যই কম টেস্ট।
তবে আগে থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষের কতটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তথা ইমিউনিটি রয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সার্কের এই আটটি দেশে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে যে সব কড়াকড়ি করা হয়েছে, সেই কারণেও ভাইরাস কম ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর