শনিবার, জুলাই ৪, ২০২০

বসুন্ধরার হাসপাতাল নিমার্ণ ২৩ এপ্রিলের মধ্যেই শেষ হবে

  • আবাসন প্রতিবেদক
  • ২০২০-০৪-১৮ ২২:২৬:০৫
image

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল নির্মাণ কাজ। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই, ২৩ এপ্রিল হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আইসিসিবি’র এক্সপো ট্রেড সেন্টারে নির্মাণাধীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে অধিদফতরের ঢাকা সিটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুল আলম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আমরা ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করেছি। সময়সীমা ১৫দিন। আপনারাই দেখছেন দিন-রাত কাজ হচ্ছে। অনেক কাজ দ্রুত শেষ হওয়ায় ১৫ দিন হয়তো দরকার হবে না। ২৩ এপ্রিলের মধ্যেই আমরা হাসপাতালটি তৈরি করে ফেলতে পারব বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। আর ১৫ দিনের মধ্যে আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
আজ সকালে নির্মাণাধীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কাজের তদারকি করতে করতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন প্রকৌশলী মো. মাসুদুল আলম। তিনি কথা বলার সময়ই পিকআপ ভরে চেয়ার এসে পৌঁছায়। সেগুলোকে কনভেনশন হলে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সবগুলো বেডের অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। পর্যাক্রমে এগুলো চলে আসছে। ২ নম্বর হলে ১০০ বেড সংরক্ষণ করা আছে। প্রতিদিনই মালামাল আসছে। এখানে রাখলে ধুলোয় নোংরা হবে। তাই অনেক ফার্নিচার আমরা এনে কনভেনশন হলের মধ্যে রেখেছি। এদিকে অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হলেই পর্যায়ক্রমে সব মালামাল নিয়ে আসব। প্রস্তুতির দিক দিয়ে আমরা সন্তোষজনক পর্যায়ে আছি। দিন-রাত কাজ করায় অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই হয়ে গেছে। আশা করছি ২৩ এপ্রিলের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপরও নানা কারণে দুই-একদিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু, আমাদের টার্গেট ২৩ তারিখ।
হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হাসপাতালটি তৈরি করে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে হস্তান্তর করা। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু, চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য সহায়ক কর্মী নিয়োগ-এগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতর করবে। আমরা আমাদের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই করতে পারব বলে আশাবাদী।
তিনি বলেন, পুরো হাসপাতালে আইসোলেশন বেড হবে দুই হাজার ১৩টি। ট্রেড সেন্টারে প্রতি ক্লাস্টারে ২৪৮টি করে মোট ছয় ক্লাস্টারে এক হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে মোট ৫২৫ বেড। এর বাইরে ৪ নম্বর হলে হবে ৭১ বেডের আইসিইউ ইউনিট।
বিদেশ থেকে আইসিইউ ইউনিটের মালামাল এসে পৌঁছেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও পৌঁছায়নি। এসে গেলে আমরা দ্রুত সেগুলো স্থাপন করে ফেলব।
দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগী দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালটি দৃশ্যমান করতে চলছে নিরলস পরিশ্রম। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নির্মাণকাজ তদারকি করছেন অধিদফতরের একাধিক প্রকৌশলী। সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছেন বসুন্ধরার প্রকৌশলীরা। উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।


এ জাতীয় আরো খবর