রবিবার, জুন ৭, ২০২০

বসন্তের রক্তরাঙা শিমুল বাগান

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-১৪ ১০:৪৫:৪১
image

প্রকৃতিতে চলছে বসন্তের হাওয়া। গাছে গাছে কোকিলের মিষ্টি সুরেলা গান। ছায়াঘেরা নিরিবিলি পরিবেশে অনবরত কুহু কুহু ডাক। আর সেই সুরেলা আওয়াজ যদি হয় রক্তরাঙা শিমুল ফুল ফোটা গাছের তলায়, তাহলে তো আর কথাই নেই! পুরো বাগানজুড়ে এখন ফুটন্ত শিমুল ফুল। কাকডাকা ভোরে গাছে থাকা থোকায় থোকায় আর ঝরে পড়া সবুজ ঘাসের ওপর বিছানো ফুলগুলো দেখার মাঝে এক অন্য রকম অপার্থিব সুখ অনুভূত হয়।

 

সুনামগঞ্জের রক্তরাঙা শিমুল বাগান দেখার জন্য অন্য ভ্রমণপিপাসুদের মতো দে-ছুট ভ্রমণ সংঘের বন্ধুরাও হাজির। অনেকে শুধু বাগান ঘুরেই আবার ফিরতি পথ ধরেছিল। কিন্তু সেই জেলাতেই যে আরো কত রকমের মায়াবী প্রকৃতির ছড়াছড়ি রয়েছে তা হয়তো জানা ছিল না অনেকের। প্রায় ৯০ বিঘা জমির ওপর তৈরি করা শিমুল বাগানে তাঁবু টানিয়ে রাত্রিযাপন আর ঝলসানো আগুনে দেশী মোরগের মাংস পুড়ে খাওয়ার মজাই ছিল অন্য রকম। সেই সঙ্গে হুট করে আয়োজন করা বাগানের ভেতরেই ভাতের পাতে হাওড়ের রুই আর গুঁড়ো চিংড়ি।

 

আমাদের এমন কাণ্ডে এতক্ষণ আশপাশ থেকে যারা এসে জড়ো হয়েছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যে যার মতো চলে গেল। একসময় বাগানজুড়ে শুধু আমরাই ছয়জন। রাত যখন গভীর, সুনসান নিরিবিলি, পুরো শিমুল বাগানে নৈঃশব্দ। সঙ্গী তখন চৌধুরীর অনবরত কর্কশ নাক ডাকার আওয়াজ আর মাঝেমধ্যে দু-চারটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ। তাতে মন্দ লাগেনি। বাগানের পাশেই নদীর পানি বয়ে চলেছে অজানায়। মায়াবিনী জাদুকাটা নদীর ওপারে ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সীমান্ত চৌকির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বাতিগুলো জ্বলজ্বল করছিল। প্রকৃতির নিস্তব্ধতাও ভিন্ন রকম ভালো লাগার, যা আপনার ভাবুক মনকে নদীর পানির মতো নিয়ে যাবে দূর অজানায়। সূর্যাস্তের বিকাল আর সূর্যোদয়ের সকালে এ রকম দুটো সময়েই আমরা শিমুল বাগানের রূপ-রঙের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে বেশ আপ্লুত হই।


বাগানের পাশের এক বাড়িতে ফ্রেশ হয়ে ছুটি নেত্রকোনার কলমাকান্দার পথে। ভারত সীমান্তের উঁচু উঁচু পাহাড়ের পাদদেশ বাংলাদেশ সীমান্তের সড়কপথে বাইক চলে দুর্বার গতিতে। বাইক এসে থামে টেকের ঘাট শহীদ সিরাজ লেক। টলটলে নীলাভ পানির লেক। চারপাশে উঁচু-নিচু পাহাড় আর টিলার মাঝে লেকটির অবস্থান। অতি উৎসাহীরা নীলাদ্রি নামে ডেকে থাকে। কেউবা বাংলার কাশ্মীর হিসেবেও সম্বোধন করে। তবে যে যা নামেই ডাকুক না কেন শহীদ সিরাজ লেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য।

 

এরপর ছুটে চলি টাঙ্গুয়া হাওড়ের পানে। বাইক চলে সরু পথ ধরে। মাঝে লাকমাছড়ায় খানিকটা বিরতি। সাদা পাহাড়ের পাশে বেশ ভালোই লাগে। এবার যাব ইন্দ্রপুর গ্রামে। সেখানে রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওড়। বর্ষায় যখন হিজল-কড়চ গাছগুলো প্রায় ডুবুডুবু, তখন এ মৌসুমে আমরা সেখান দিয়ে হেঁটে বেড়াই। জলের ধারে পৌঁছে নৌকা পাই কিন্তু মাঝি নেই। অগত্যা নিজেরাই নৌকা বেয়ে হাওড়ের স্বচ্ছ জলরাশিতে ভেসে বেড়াই। হাওড়ের এপাশটা মাছের অভয়াশ্রম। তাই পাখির দেখাও মিলে বেশ। বেলা প্রায় ৩টা। পেটেও টান পড়েছে। যাই এবার মহিষখোলা। আগে থেকেই অস্থির ইফতেখার সেখানে অবস্থান করে বাজারের এক হোটেলে লাল আলু দিয়ে দেশী মোরগের ঝোল আর নানা পদের ভর্তার আয়োজন করে রেখেছে। আহ্ কী ঘ্রাণ। হাত-মুখ ধুয়ে বসে যাই খেতে। বিদায় ভাটির দেশ সুনামগঞ্জ। পাহাড়ের পাদদেশের সড়কপথে বাইকে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত ভ্রমণ ঝুলি সমৃদ্ধ করবে।


এ জাতীয় আরো খবর