বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

দেশে প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-১৩ ১১:৩১:৫৬
image

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো। খবর বাসস।

গতকাল বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বমানের এ এক্সপ্রেসওয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। প্রকল্প বিষয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি (যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে) দেশের প্রথম নিয়ন্ত্রিত এক্সপ্রেসওয়ে। এটি জাতির জন্য মুজিব বর্ষের উপহার। শেখ হাসিনা বলেন, এ এক্সপ্রেসওয়ে ধরে যানবাহনগুলো কোনো ধরনের বাধা বা ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারবে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য ধীরগতির যানবাহন চলাচলের পৃথক লেন নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় এ ভাঙ্গা পর্যন্ত যেতে হলে স্টিমার বা লঞ্চে যেতে হতো। আর আমাদের গোপালগঞ্জ যেতে স্টিমারেই ২৪ ঘণ্টা লাগত। লঞ্চে সময় লাগত আরো বেশি। এমনকি ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসি, তখনো সেই অবস্থাই ছিল। তিনি বলেন শুধু সড়ক নয়; নৌ, আকাশ ও রেলপথেরও উন্নয়ন করছে সরকার।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন এ পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। আমি সেটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কানাডার কোর্টে প্রমাণ হয়, সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুটা একটি ভিন্নধর্মী দোতলা সেতু হচ্ছে। নিচ দিয়ে রেল যাবে এবং ওপর দিয়ে যাবে গাড়ি। পদ্মার মতো একটি খরস্রোতা নদীতে এ-জাতীয় সেতু নির্মাণ করাটা বিরাট ঝুঁকির ব্যাপার থাকলেও তার সরকার নিজস্ব অর্থায়নেই এ সেতু নির্মাণ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। যাতে ঢাকা থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জনগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করতে পারে।

সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেজন্য সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, আন্ডারপাস, ওভারপাসের নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ সড়ক জোনে নির্মিত ২৫টি সেতু এবং তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনবিশিষ্ট আট কিলোমিটার তৃতীয় কর্ণফুলী (শাহ আমানত সেতু) সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক উদ্বোধন করেন।

পরে পৃথক এক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষ, ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।


এ জাতীয় আরো খবর