বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে অ্যাঙ্গোলার নারীরা

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-১২ ১১:১৪:২৫
image

প্রতিবার ফসলের জন্য পানি আনতে গেলেই আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠে তেহাদঁজিলা কোয়েসালের। অ্যাঙ্গোলার দক্ষিণাঞ্চলীয় হুইলা প্রদেশের পর্বতমালা থেকে পানি আনতে হয় তাকে। সবচেয়ে কাছের উৎস থেকে পানি নেয়ার জন্য তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে বেরিয়ে ৩ ঘণ্টা  হেঁটে পৌঁছতে হয় ১৬ বছর বয়সী কোয়েসালেকে। এর পরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। অধিকাংশ দিনই বালতি পূর্ণ করতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বেশি রয়েছে কোয়েসালের।

 

পানি নিয়ে বেশি রাতে ফেরার পথে দুটি মেয়ে ধর্ষণের শিকারও হয়েছে বলে জানান কোয়েসালে। তিনি বলেন, কিছু ছেলে হামলা বা লোকজনকে টেনে নিতে অভ্যস্ত। যে কারণে খুবই আতঙ্কে থাকতে হয়। বেশ কয়েক বছরের অনাবৃষ্টির কারণে তীব্র খরার কবলে রয়েছে অ্যাঙ্গোলার হুইলা প্রদেশ। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে অধিকাংশ পানির উৎস শুকিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে ফসল। অঞ্চলটির প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের অনাহারে থাকার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

 

খরার পর পরই প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি পানি ধারণ করে রাখতে সক্ষম হওয়ায় কোয়েসালে এখন বাড়ির কাছাকাছি ঝরনা থেকেই পানি পাচ্ছেন। কিন্তু এটা বড় কোনো স্বস্তি বয়ে আনতে পারেনি তার জীবনে। কারণ পারিবারিক ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী দিনে খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া এলাকার সিংহভাগ পুরুষ কাজের খোঁজে শহরে চলে যাওয়ায় সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, অর্থ ও খাদ্য সংগ্রহের মরিয়া চেষ্টায় অনেক কিশোরী যৌনতার আশ্রয় নিচ্ছে।

 

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অ্যাঙ্গোলা প্রতিনিধি ফ্লোরবেলা ফার্নান্দেজ বলেন, নারীদের জীবনে, বিশেষত প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। চরম আবহাওয়ায় সৃষ্ট সংকট ‘ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী’গুলোকে অসামঞ্জ্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব সংকট তাদের সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশই নারী।

 

স্বামী চাকরি নিয়ে শহরে চলে যাওয়ার পর সর্বাত্মকভাবে পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন কোয়েসালের ৪৭ বছর বয়সী মা ফার্নেন্দা। তিনি জানান, পাহাড়ের ওপর ফসলের হলুদ পাতা শেকড়ের পচনের আভাস দিচ্ছে। শিশুরা এখন আর তাদের বাবার জন্য না বরং মা যেন কিছু খেতে দিতে পারে তার জন্য কাঁদে। জলবায়ু পরিবর্তন খাদ্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তোলায় মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার বেড়ে গেছে হুইলায়। কোয়েসালের বড় বোন ডোমিঙ্গাসও স্কুল ছেড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হন। বাবার মতো স্বামীও শহরে চাকরিতে চলে যাওয়ায় খরার সময় সবার সঙ্গে পানি আনতে যেতে হয় তাকেও।

 

ওয়ার্ল্ড ভিশন অ্যাঙ্গোলার শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অ্যানাইনা লরেঙ্কো বলেন, খরার সময় মেয়েরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে থাকে। ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনার ভার তাদের ওপর পড়ে এবং লেখাপড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই বছর আগে বাবা কাজের খোঁজে চলে যাওয়ায় লেখাপড়া বাধাগ্রস্ত হয় ১৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা ক্যানাইনোর। স্কুলের ব্যয় নির্বাহে অক্ষম ক্যানাইনোর মা জ্যাকিন্তা স্কুল ছাড়িয়ে সংসারে সহযোগিতা করতে বলেন তাকে। সন্তানদের পুনরায় স্কুলে পাঠানোর আগ্রহ থাকলেও দৈনন্দিন সংগ্রাম বড় বাধা হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর