শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০

মুজিব বর্ষের পুনর্বিন্যস্ত কর্মসূচিতে যা থাকছে

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-১০ ১৬:৩৯:৩৫
image

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান কাটছাঁট করা হয়েছে। ১৭ মার্চে প্যারেড গ্রাউন্ডের মূল প্রোগ্রাম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ১৭ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করে অনুষ্ঠানটি পুনর্বিন্যাস করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা চাই জনগণ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। জনগণের মঙ্গলের কথা এবং মানবিক বিষয় চিন্তা করে কর্মসূচি নতুনভাবে সাজিয়েছি।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

পুনর্বিন্যাস কর্মসূচি তুলে ধরে কাদের বলেন, ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ও সারাদেশে সকল সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী সকলেই বিশেষ করে আমাদের জেলা, মহানগর, এমনকি উপজেলা পর্যন্ত কমিটিগুলো অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে। সকল সহযোগী সংগঠন সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে।


এছাড়া সারাদেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে। ১৭ মার্চ সারাদেশে দুঃস্থ-এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার এবং আলোক সজ্জা করা হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে যে কর্মসূচি রয়েছে, সেই কর্মসূচিতে একযোগে সকল গণমাধ্যম প্রচার করবে। দেশবাসীকে ঘরে বসে সেই আয়োজন দেখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ করেন কাদের।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ রাত ৮ টায় সারাদেশে একযোগে আতশবাজি, ফায়ার ওয়ার্কস হবে। এটা সেই আনন্দঘন মুহূর্ত, যখন জাতির পিতা জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

কাদের বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি কোনো মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরঞ্জিত ভাবে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এক জায়গায় অধিক লোক সমাগম করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, বিধায় এ বিষয়ে আমরা সবাইকে সর্তক করে দিতে চাই। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের জনস্বার্থে অধিক লোক সমাগমের সকল কর্মসূচি আপাতত পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১৭ মার্চ কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করে অনুষ্ঠানটি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পুন: বিন্যাস কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা চাই জনগণ জাতে কোনো ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। জনগণের মঙ্গলের কথা এবং মানবিক বিষয় চিন্তা কররে কর্মসূচি নতুনভাবে সাজিয়েছি। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের উন্নতি হলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে যে কোনো সময়ে এই কর্মসূচি পুনরায় আয়োজন করা হবে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশি মেহমান বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসার কথা সেই বিষয়টা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুজিববর্ষ বছরব্যাপী চলবে, বছরের যে কোনো সময় বিদেশি মেহমানদের উপস্থিতিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যথেষ্ট সময় আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা সময়মতো অবস্থা দেখে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে বাধ্য হয়ে জনস্বার্থে এবং জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে মানবিক কারণে বর্ণাঢ্য আয়োজন কাটছাঁট করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ইতিহাসের বিশেষ দিক। এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এমন দিনে হচ্ছে সেই মঙ্গলবার। যে মঙ্গলবারে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮টায় বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, মহানায়ক, মহাবীর বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এবার বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে পারলে ভালো লাগত। দেশের মানুষও এমন দিনের অপেক্ষা করছিল। পরিস্থিতির বাস্তবতা ভিন্ন বিষয়। বঙ্গবন্ধু কন্যারা বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে ভেবেছেন। তারা ভেবেছেন মানবতার চেয়ে জনস্বার্থের চেয়ে অন্য কোনো বিষয় এই মুহূর্তে প্রাধান্য পাওয়া উচিত না। যে কারণে বিপুল উৎসবমুখর আয়োজন কাটছাঁট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংযোগ নেই। বিশিষ্ট মেহমানরা কেউ প্রোগ্রাম স্থগিত করেননি। কাজেই বঙ্গবন্ধু কন্যা যে কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করেছেন এটি অন্যভাবে উপস্থাপন করার জন্য অনেকে চেষ্টা করছেন। এটা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য রেখেছেন। আমরা বাস্তবতা অনুসরণ করে চলছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি আমরা যথাযথভাবে অনুসরণ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পারভীন জামান কল্পনাসহ অনেকে।


এ জাতীয় আরো খবর