বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০

ক্রিকেট এমনই, উপলব্ধি তামিমের

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-০৫ ১০:৫৩:৫৯
image

টানা ১৯ মাস ধরে সেঞ্চুরি নেই। সর্বশেষ ১২ ম্যাচের পরিসংখ্যান তো একেবারেই নাজুক। গড় ২৩.৩৩ আর স্ট্রাইক রেট ৫৫.৫৫। দেশসেরা ব্যাটসম্যানের জন্য এটা নিশ্চয়ই স্বস্তিদায়ক নয়। হতাশারও অনেকটা। তামিমকেও পেয়ে বসেছিল হতাশা। রান না পাওয়া, বাইরের ফিসফাস—সব মিলিয়ে চাপেও ছিলেন কিছুটা। মঙ্গলবার সিলেটে এক ইনিংসেই উড়িয়ে দিলেন সব। এদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৬ রান করে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড নতুন করে গড়েন এ বাঁ-হাতি।

 

এমন ইনিংসের পর স্বভাবতই খুশি তামিম। একই সঙ্গে একটা দার্শনিক উপলব্ধিও এসেছে তার। তামিমের মতে, ‘ক্রিকেট এমনই। একদিন খুশি হবেন, একদিন হতাশ থাকবেন। এটা মিশ্র অনুভূতির।’ আসলেই ক্রিকেট এমনই। যে তামিম বিশ্বকাপ থেকেই হতাশ করে যাচ্ছিলেন সমর্থকদের, সেই তামিমই মঙ্গলবার একাই রাঙিয়ে দিলেন পুরো ম্যাচ। অনেকদিন পর আভির্ভূত হলেন স্বরূপে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছে টাইগারদের। শেষ ম্যাচ শুক্রবার। মাঝখানে দুদিনের বিরতি। তাই বুধবার আর অনুশীলন করেননি বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। সকালে জিম্বাবুয়ে অনুশীলন করলেও মাশরাফি-তামিমরা শুয়ে-বসে-ঘুরে বেড়িয়েই কাটিয়েছেন দিন। বিকালে হোটেলের লবিতেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তামিম।

 

বুধবারের ম্যাচের আগে কিছুটা চাপে ছিলেন, তবে টিমমেট ও ম্যানেজমেন্ট সবসময়ই তার পাশে ছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। তার কথায়, চাপে তো কিছুটা ছিলামই। এটা ‘না’ বললে মিথ্যা কথা বলা হবে। তবে একটা বিশ্বাস অবশ্যই ছিল যে বড় ইনিংস হয়ে যাবে। অনেকদিন ধরেই হচ্ছিল না। আর অনেককেই এর জন্য কৃতিত্ব দেয়া উচিত। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেন বা আমার টিমমেটদের কথা বলেন। তারা একটা মিনিটের জন্যও আমার ওপর বিশ্বাস হারায়নি। হয়তোবা আমিও যখন একটু হতাশ হয়ে যাচ্ছিলাম। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে এ রকম একটা সময়...টিমমেট আর ম্যানেজমেন্ট... সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়েছে।

 

বুধবারের ম্যাচের আগে খোদ বোর্ড সভাপতিও ফোনে কথা বলেছেন তার সঙ্গে বলেও জানান তামিম, বোর্ডও সবসময় আমার পাশে ছিল। এটা না বললেই নয়, দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন আমাকে প্রেসিডেন্টও (নাজমুল হাসান পাপন) ফোন করেছেন। তিনি অনেক সুন্দর কিছু কথা আমাকে বলেছেন, যেগুলো আসলে ভালো লাগার মতো।

 

গত বিশ্বকাপ থেকে তামিমের রান না পাওয়ার চেয়েও তার অতি রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমালোচনা হচ্ছিল। পাওয়ার প্লের ওভারগুলোতেও একের পর এক ডট বল দিয়ে তামিমের সঙ্গে কেউই মেলাতে পারছিলেন না সেই মারকুটে তামিমকে। বুধবার পুরনো তামিমকেই দেখা গেল আবার। ১০৬ বলে তুলে নেন নিজের দ্বাদশ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ বলে ১৫৮ করে থামেন। তবে কি এখন থেকে সেই ড্যাশিং ওপেনার তামিমকেই দেখা যাবে মাঠে, এমন প্রশ্নও উঠল। যদিও তামিমের আপত্তি আছে এতে। বলেন, সত্যি কথা বলতে আমি কিন্তু কোনোকিছুই আলাদাভাবে করিনি। একটা জিনিস হয়ে গেছে, আমি প্রথমে দু-তিনটা বাউন্ডারি বেশি পেয়ে গেছি। একশর পর হয়তোবা দেখেছেন কিন্তু একশর আগে দেখেননি যে আমি সামনে এগিয়ে বড় শটস খেলেছি। কালকে হয়তোবা গ্যাপে চলে গেছে সব, বাউন্ডারি হয়ে গেছে। তার আগের দিন গ্যাপে যায়নি বলে বাউন্ডারিগুলো হয়নি। কালকে বল আর রানের প্রায় সমান সমান ছিল দেখে মনে হয়েছে যে আমি অনেক কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছি। এটা আসলে ঠিক না। আমি সবসময় যেভাবে ব্যাটিং করি, কালকেও একই ধরনের মাইন্ডসেট নিয়ে ব্যাটিং করেছি।

 

১৫৮-কে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেয়া সম্ভব ছিল কিনা, এ প্রসঙ্গে তামিমের ভাষ্য, ও রকম কিছু ভাবিনি। আরো ৫ ওভার যখন ছিল, তখন একটা ওভারে যদি ১৫-২০ করে নিতে পারতাম, তাহলে একটা সুযোগ থাকলেও থাকতে পারত। ওটা ৪২ রান দূরে। যদি ১৫-২০ রান দূরে থাকতাম, তাহলে অবশ্যই ভাবতাম। কিন্তু আমি ও রকম কিছু ভাবিনি।

 

চাপ-সমালোচনা উড়িয়ে ১৫০ করেছেন। তবে এ ইনিংস থেকেও তিনি এগিয়ে রাখতে চান ২০০৯ সালে করা ১৫৪ রানের ইনিংসটি। তামিমের যুক্তি, আমার কাছে মনে হয় ওটা প্রথমবার আমরা ৩০০ রান প্লাস চেজ করে ম্যাচ জিতেছিলাম। এখন ৩০০ রানটা মানুষ নিয়মিতই দেখে। কিন্তু ওই সময় ৩০০ রান এত সহজ ছিল না। ওই সময়ের ৩০০ রান, এখনকার ৪০০ রানের সমান। ওই ম্যাচে তো অবশ্যই ওই ইনিংসটাকে আমি এটার চেয়ে এগিয়ে রাখব।

 

তবে জিম্বাবুয়েকে যে মোটেই হেলাফেলা করা চলবে না সেটা ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছে স্বাগতিক শিবির। তামিমের ভাষায়, ক্রিকেট কতটা অনিশ্চয়তার খেলা এ ম্যাচে খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। তবে একটা ভালো দিক যে আমরা সিরিজ জিতে গেছি। তবে আগের ম্যাচের ভুলগুলো পরের ম্যাচে করা চলবে না।

 

পাকিস্তান সফরের আগে মনোবল চাঙ্গা করার জন্যও শেষ ম্যাচে ভালো করার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের।


এ জাতীয় আরো খবর