শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০

ই-পেমেন্টে শুল্ক দেয় ১ শতাংশের কম আমদানিকারক

  • Abashan
  • ২০২০-০৩-০২ ১১:৩৮:০৮
image

দেশে বর্তমানে সক্রিয় আমদানিকারকের সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি, আর রফতানিতে সক্রিয় আছে পাঁচ-ছয় হাজার। এর মধ্যে মাত্র ২০৮টি প্রতিষ্ঠান ই-পেমেন্টের আওতায় শুল্ক পরিশোধ করে, যা সক্রিয় আমদানিকারকের ১ শতাংশেরও কম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহের কারণে গতি পাচ্ছে না ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে শুল্ক আদায় কার্যক্রম। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আধুনিক ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালু করে এনবিআর। এ পদ্ধতিতে আমদানি ও রফতানিকারকরা ইউজার আইডি ব্যবহার করে রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট (আরটিজিএস) গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই শুল্ক পরিশোধ করতে পারেন। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুল্ক পরিশোধ করা হলে আমদানিকারকের ফোন নম্বরে শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত কনফার্মেশন এসএমএস পৌঁছে যাবে। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্কে শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য আপডেট হবে। কিন্তু সেবাটি চালুর প্রায় তিন বছরেও ই-পেমেন্ট ব্যবহারে খুব একটা আগ্রহী করে তুলতে পারেনি এনবিআর।

 

বর্তমানে ঢাকা কাস্টম হাউজ, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা, কমলাপুরের ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি), বেনাপোল কাস্টম হাউজ ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালু রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ২৩ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ই-পেমেন্ট সেবার আওতায় আসে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেবাটি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬৩টি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করছে, যার বেশির ভাগই বহুজাতিক কোম্পানি। এছাড়া বেনাপোল কাস্টম হাউজে ১১, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকাতে ৭-৮, ঢাকা কাস্টম হাউজে ২৫ ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে একটি প্রতিষ্ঠান ই-পেমেন্টের মাধ্যমে শুল্ক পরিশোধ করে।

 

ই-পেমেন্টের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে ৩৫ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমসের। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৪ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা এবং আহরণ হয়েছিল ৪৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের একটি সূত্র জানিয়েছে, ই-পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধে আমদানিকারক এবং তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আগ্রহী নয়। এটাই এনবিআরের জন্য বড় বাধা।

 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ আহসান হাবিব সুমন এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, আমদানিকারকদের সদিচ্ছার অভাব আছে। তারা এগিয়ে আসছে না বলেই ই-পেমেন্টের বিষয়টি এখনো এ অবস্থায় আছে। আরেকটা বিষয় হলো ই-পেমেন্ট শুল্ক পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা নেই। এ কারণে যার ইচ্ছা সে করছে, যার ইচ্ছা নেই সে করছে না। এছাড়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট যারা, তারা আমদানিকারকের কাছ থেকে ক্যাশ টাকা নিয়ে আমদানি শুল্ক পরিশোধ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে আমার মনে হয়। তা না হলে বিষয়টা তো এমন হওয়ার কথা না।

 

এদিকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, ই-পেমেন্ট সিস্টেমটি ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি। তাই তাদের বেশির ভাগেরই আগ্রহের জায়গায় পৌঁছতে পারেনি সেবাটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বণিক বার্তাকে বলেন, ই-পেমেন্ট সিস্টেমটা আসলে এখনো ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি। এখন যে পদ্ধতিতে শুল্কায়ন হয়, তার চেয়ে বেশি সময় লাগে ই-পেমেন্টে শুল্ক পরিশোধ করতে গেলে। এটা আসলে এনবিআরের সিস্টেমের দুর্বলতা।

 

ই-পেমেন্টের দুর্বলতা যখন দূর হবে তখন হয়তো সবাই ওই পদ্ধতিতেই কাজ করবে। আমরাও পারমানেন্টলি এ সেবা নেয়ার অপেক্ষায় আছি। তখন এখনকার মতো জাল-জালিয়াতিও হবে না। আমদানিকারকদের মধ্যে ই-পেমেন্ট নিয়ে অনাগ্রহ আছে বলে জানিয়েছেন কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু। তার ভাষ্য, সম্প্রতি তিনি এক আমদানিকারককে ই-পেমেন্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই আমদানিকারক বলেছেন, এটা জটিল প্রক্রিয়া। এখন যেভাবে কাজ হচ্ছে, সেভাবেই হোক।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিস্টেমস ম্যানেজার শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশের মানুষ টেকনোলজি সহজে গ্রহণ করতে চায় না। আমরা যদি না করতাম, তাহলে বলত ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেন। এখন চালু করছি, অথচ তারা সে সুবিধাটা নিচ্ছেন না। এটা ব্যবসায়ীদের এক ধরনের আলসেমি; যা বুঝলাম, তারা আসলে ট্র্যাডিশনাল সিস্টেমই পছন্দ করেন। তবে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করছি। আমরা তো ব্যবসায়ীদের চাপ দিতে পারি না যে, ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক তাদের জন্য। সেটা করতে গেলে তো সরকারি আদেশ লাগবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তো স্বাধীন। যেকোনো মাধ্যমেই তারা পেমেন্ট করতে পারেন। আরেকটা বিষয় হলো, ই-পেমেন্টকে ব্যবসায়ীরা একটা হ্যাসেল মনে করেন। তাই তারাও এ বিষয়টায় আগ্রহী নয়।


এ জাতীয় আরো খবর