সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

থিমাম্মা মারিমানু জঙ্গলের সমান এক বটবৃক্ষ

  • Abashan
  • ২০২০-০২-২১ ১৮:১৬:৩৩
image

অনেক বছর আগে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস করতেন থিমাম্মা নামের এক নারী। স্বামী বালা ভিরাইয়ার সঙ্গে ভালোই কাটছিল দিন। এই সুখ বেশিদিন সইলো না। কুষ্ঠরোগে মারা গেলেন ভিরাইয়ার। স্বামীর এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি থিমাম্মা। স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে চিতায় গিয়ে শুয়ে পড়েন তিনি। এই সতী নারীই পরে আবির্ভুত হন এক বটবৃক্ষ হয়ে। সেই বটবৃক্ষ বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় একর জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে!

 

পৃথিবীর সর্বাধিক জায়গায়জুড়ে বিস্তৃত গাছ হিসেবে গিনেজ বুকে জায়গা করে নেয়া ‘থিমাম্মা মারিমানু’ বটবৃক্ষ নিয়ে স্থানীয় কিংবদন্তিটি এমনই। ‘থিমাম্মা মারিমানু’ নামের বিশালাকায় বটবৃক্ষটির অবস্থান অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর। এ বৃক্ষ এখন তীর্থস্থান। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ এখানে আসে। পূজা দেয়। তীর্থযাত্রীদের বেশিরভাগই হিন্দু। গাছটি উর্বরতা, জীবন ও পুনরুত্থানের প্রতীক বলে মনে করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে পৃথিবীর সবার্ধিক বিস্তৃত বৃক্ষ হিসেবে জায়গা করে নেয় গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। ২০১৭ সালে রেকর্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়।


আউটরিচ ইকোলজির ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের সাতটি বিস্তৃত বৃক্ষ রয়েছে ভারতেই। এর মধ্যে বিস্তৃতিতে থিমাম্মা মারিমানু প্রথম। ৮৪৬ মিটার পরিধি নিয়ে প্রায় পাঁচ একর জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে থিমাম্মা মারিমানু। তবে স্থানীয় বন বিভাগের দাবি, এই গাছ ৬৬০ বছরের পুরানো। আর এর ছায়াতলে আছে আট একরেরও বেশি জায়গা।

 

কথিত আছে থিমাম্মা নামের ওই সতী নারীর নাম থেকেই নেয়া হয় বৃক্ষটির নামের প্রথম অংশ। বাকি অংশ তেলেগু শব্দদ্বয় মারি (বট) ও মানু ( বৃক্ষ) মিলিয়ে রাখা হয়। এতো বিশাল জায়গা নিয়ে বিস্তৃত বটবৃক্ষটিকে বৃক্ষ না বলে আস্ত একটা জঙ্গল বললেও ভুল হবে না। প্রায় চার হাজার স্তম্ভমূলের এই বটবৃক্ষ শতাব্দীর পর শতাব্দী হাজারো ঝড়ঝাপ্টা সামাল দিয়েছে। মচকেছে কিন্তু ভাঙেনি।

 

হিন্দু, বৌদ্ধ বা অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা সন্তানের আশায় থিমাম্মা মারিমানুর শাখায় ফিতা বাঁধেন। স্থানীয় জনগণের একটি দৃঢ় বিশ্বাস, যদি নিঃসন্তান দম্পতি গাছে একটি জাফরান ফিতা বেঁধে রাখেন তবে দেবী এক বছরের মধ্যে তাদের সন্তান উপহার দেন। ভগবত গীতাতেও এই গাছের চর্যা আছে। এছাড়া মনে করা হয়, থিমাম্মা ও তার স্বামীর আত্মার শক্তিতেই এই বটবৃক্ষের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হচ্ছে। বটবৃক্ষের বেশে প্রতিদিন বেড়ে চলেছেন থিমাম্মা। তাকে এখন তারা দেবীজ্ঞানে পূজা করেন।

 

প্রায় এক দশক আগে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বটবৃক্ষের নিচে একটি স্থানে কিছু অলঙ্কার পাওয়া যায়। তখন থিমাম্মাকে নিয়ে কিংবদন্তিটি আরো দৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হয়। স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত ওই স্থানেই একটি মন্দির স্থাপনের নির্দেশ দেন। এ মন্দিরের নাম আম্মাভাড়ু। মন্দিরের প্রবেশদ্বারেই রয়েছে প্রহরী হিসেবে দেবী নন্দীর মূর্তি। আর মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়েছে সৃষ্টি ও প্রলয়ের দেবতা শিবের নামে। তীর্থযাত্রী ও দর্শণার্থীরা থিমাম্মা ও বালার সমাধিক্ষেত্রে শ্রদ্ধা জানানোর পর আসেন এই মন্দিরে। প্রার্থনা শেষে বসে যান থিমাম্মা মারিমানুর কাহিনী শুনতে।


তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন শান্তির খোঁজে। তারা খালি পায়ে বটবৃক্ষের ভেতরে হাঁটাহাটি করেন। মন্দিরের  ‍পুরোহিতের দেয়া পবিত্র ফিতা গাছে বাঁধেন।


এ জাতীয় আরো খবর