শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০

গন্তব্য যখন স্বপ্নের ক্যারিয়ার গঠন

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১৭ ১৭:৩৯:১৩
image

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থীই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে উঠতে পারেন না। বিসিএস ক্যাডার হবেন নাকি ব্যাংকার, উদ্যোক্তা হবেন নাকি করপোরেট জব হোল্ডার? সিদ্ধান্তের এমন দোলাচলে নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান সময়। শিক্ষার্থীরা যেন নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব (জেএনইউসিসি)।

 

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভাবনা নিয়ে হাজারো সমস্যা সমাধান এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে পথচলা শুরু হয় জেএনইউসিসির। জবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের আট শিক্ষার্থীর হাত ধরে ২০১১ সালের ১ জুলাই ক্লাবটির যাত্রা। তরুণদের ক্যারিয়ার ভাবনা ও তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আট বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে জেএনইউসিসি। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন সাকেব সভাপতি মো. আল-আমীন। ক্লাবটির শুরু থেকেই চিফ মডারেটর ও মডারেটর হিসেবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন যথাক্রমে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন ও সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম।

 

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মূলত আমরা জবি ক্যারিয়ার ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে ক্যারিয়ার ক্লাব কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।

 

বর্তমানে জেএনইউসিসির সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩৮০ জন। পরিবর্তনশীল, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকার সফটস্কিল ও কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে তরুণদের সহায়তা করছে ক্লাবটি। বিভিন্ন ধরনের ক্যারিয়ার-বিষয়ক কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, প্রেজেন্টেশন প্রোগ্রাম, পাবলিক স্পিকিং, সিভি রাইটিং, আইডিয়া কম্পিটিশন, লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, শিল্প-কারখানা পরিদর্শনসহ শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় এ ক্লাব ক্যারিয়ার নির্দেশনা, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার ফেস্টিভ্যাল, দিনব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কুইজ প্রতিযোগিতা, বিজনেস কেইস কম্পিটিশন, সার্টিফিকেশন কোর্স, উন্নত যোগাযোগ প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

 

ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে গত বছর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডকয়েট অব এক্সিলেন্স’ শিরোনামে একটি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় দেশসেরা ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ডকয়েট অব এক্সিলেন্স প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় জাতীয় একটি সমস্যা নির্বাচন করে প্রতিযোগীদের সমাধান করতে দেয়া হয়। তিনটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী দলকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়া দল যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা পাবে। প্রতি বছর ক্লাবটি চাকরি মেলা বা ক্যারিয়ার কার্নিভালের আয়োজন করে থাকে। সেখান থেকে করপোরেট সেক্টরে অনেক শিক্ষার্থী চাকরি পেয়ে থাকেন।

 

ক্লাবটির উদ্যোগে এ বছর তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘হ্যাভ পাওয়ার অন পাওয়ারপয়েন্ট অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন সেশন ৩’। কর্মশালাটি মূলত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য। গত ২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ কর্মশালা চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর ২০টির বেশি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের হাজারের অধিক নবীন শিক্ষার্থী এ কর্মশালার আওতায় প্রশিক্ষণ পেতে যাচ্ছে। কর্মশালাটি দুটি সেশনে পরিচালিত হচ্ছে, প্রথম সেশনে পাওয়ারপয়েন্ট এবং দ্বিতীয় সেশনে প্রেজেন্টেশন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিভাগে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করেছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিভাগে কর্মশালাটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

কর্মশালাটির বিষয়ে ক্লাবের সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাভ পাওয়ার অন পাওয়ারপয়েন্ট অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন সেশন ৩’ কর্মশালাটিতে নবীন শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে অংশগ্রহণ করে নিজেদের পাওয়ারপয়েন্ট ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতা বাড়াচ্ছে। কর্মশালাটিতে সহযোগিতা করেছে বিওয়াইএলসিএক্স, যা বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) একটি অনলাইন একাডেমি। বিওয়াইএলসির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে নেতৃত্ব শিক্ষা ও একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেয়া।’

 

এভাবেই ক্যারিয়ার ক্লাবের অর্জনের খাতায় দিন দিন যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, যার কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা। প্রতি বছর উপদেষ্টা প্যানেল, মডারেটর শিক্ষকরা বসে একটা বোর্ড গঠন করেন। আর আগে থেকেই এক্সিকিউটিভ ও ডিরেক্টরদের মধ্য থেকে একটা শর্টলিস্টেড করা থাকে। ওই বোর্ডে তাদের ভাইভা নেয়া হয়। ক্লাবে অবদান, আগের কাজকর্ম অনুযায়ী সবদিক বিবেচনা করে কমিটি নির্বাচন করেন বোর্ড সদস্যরা। নির্বাচিত কমিটি পরবর্তী এক বছর ক্লাবটি পরিচালনা করে।

 

জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার যাত্রা সহজ, সুন্দর ও সুদৃঢ় করতে জবি ক্যারিয়ার ক্লাব কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবে। মানসম্মত ও বাস্তবধর্মী শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংগঠনটি এগিয়ে যাবে, যেটি প্রতিফলিত হবে শিক্ষার্থীদের জীবনের পরবর্তী ধাপগুলোয়।


এ জাতীয় আরো খবর