সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০

ফায়ার সেইফটি ইকুইপমেন্ট দেশেই তৈরী করতে চায় সরকার

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১৪ ২০:৫৭:৩৩
image

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশে ফায়ার অ্যান্ড সেফটি জন্য যে ইকুইপমেন্ট দরকার তার অধিকাংশ এখনও দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছি, যেদিন ফায়ার অ্যান্ড সেফটি ইকুইপমেন্টের মেজর অংশ এই দেশেই উৎপাদন হবে। ফায়ার সিস্টেম, ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থাপনা, সবকিছুই হোক এ দেশেই। এটা সরকার চায়। এটা করা গেলে আমাদের কষ্টার্জিত অর্জন রক্ষা হবে, জীবনমান বদলে যাবে, জনবলের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়বে, সৃষ্টি হবে কর্ম সেক্টর।

 

রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপাের (ইফসি) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইফসির এই ৭ম আসরের আয়োজন করেছে ইলেকট্রনিকস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)। বরাবরের মতো কো-পার্টনার বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। সহযােগী পার্টনার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব), এনএফপিএ-ইউএসএ, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ, বেসিস, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি-বিসিএস, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট বিজনেস ওনার্স অ্যাসােসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পাইপ অ্যান্ড টিউবওয়েল মার্চেন্টস অ্যাসােসিয়েশন।

 

শুধু নাম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। মেলা চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চোরে যদি বাড়ি চুরি করে অনেক সম্পদ হয়তো খোয়া যায়, কিন্তু বাড়িটা অন্তত থাকে। যদি আগুন লাগে তাহলে বাড়িও যায়, সম্পদও যায়। বাকি থাকে না। সবই তো শেষ হয়ে যায়। সেই জায়গাতে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। মন্ত্রী বলেন, ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্ট তৈরিতে যা যা লাগে, প্রোপোজাল পাঠান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। সরকার ফায়ার সেফটি শতভাগ নিশ্চিত করত চায়।


তিনি, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ছিল বড় ধাক্কা। কখনও কখনও কোনো বিপদ সম্পদে রূপ নেয়। সেই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠেছি। সিকিউরিটি অ্যান্ড ফায়ার সেফটি নিয়ে কাজ হয়েছে। এখন পৃথিবীর সেরা ফ্যাক্টরির বড়গুলো বাংলাদেশে। ১০টা গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে ৭টাই বাংলাদেশে। ১০০টা ফ্যাক্টরি এলিট সার্টিফিকেট পেয়েছে। পৃথিবীর সেরা ওয়াশিং প্লান্টও এই দেশে। এমনকি পৃথিবী সেরা ডেনিম ফ্যাক্টরিও বাংলাদেশে।


 
‘একসঙ্গে অনেকগুলো জায়গায় সমস্যা হলে বড় সংকট দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিস কতটি জায়গায় যাবে। রানা প্লাজা কিংবা তাজরীন ফ্যাশনস দুর্ঘটনার পর কিন্তু সেই জায়গা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আসলে সবাইকে ফায়ার অ্যান্ড সেফটি নিয়ে সচেতন হতে হবে, কাজ করতে হবে। শুধু গার্মেন্ট সেক্টর নয়, জীবনের প্রত্যেকটি জায়গায় সেফটি সিকিউরিটি পার্ট হয়ে গেছে। আমাদের ফায়ার সার্ভিস অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সে কাজটি করে চলেছে।’

 

‘রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর বিদেশি ফায়ার এক্সপার্টকে নিয়ে এসে আমাদের অনেক প্ল্যান করতে হয়েছে। এখন সে অবস্থা বদলে গেছে। ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) সেই জায়গাটাতে বেশ ভালোভাবেই কাজ শুরু করেছে। সার্ভিসও কাজ করছে, আমি তাদের অভিনন্দন জানাই,’- বলেন মন্ত্রী।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (ট্রেনিং, প্রানিং ও ডেভেলপমেন্ট) লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান বলেন, ফায়ার কর্মীরা প্রতিটা দুর্যোগে প্রথম ও দ্রুত পৌঁছে থাকেন। কোনো একটা স্থানে যদি এমন হয় যে, আগুন লাগার পর আমাদের পৌঁছার আগেই নির্বাপণ হয় কিংবা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা থাকে তাহলে আমার উপস্থিতি থাকলেও অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই। সেটাই আমাদের চাওয়া।’

 

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের একটিভিটিজ কমে যাবে যদি ইসাবকে সহযোগিতায় সবাই এগিয়ে আসি। ফায়ার সেফটি নিয়ে কো-পার্টনার হিসেবে সব সময় কাজ করবে ফায়ার সার্ভিস। উপস্থিতি এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডন্টে মাে. মুনতাকিম আশরাফ বলেন, ইসাব ফায়ার অ্যান্ড সেফটি নিয়ে কাজ করছে। অধিকাংশই তারা আমদানি করছে। আগামীতে যাতে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্ট বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে।


 
বিজিএমইএর ফাস্ট ভাইস-প্রেসিডন্টে মােহাম্মাদ আব্দুস সালাম বলেন, তাজরীন ফ্যাশনের ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সে সময় সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিয়ে আমাদের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনেক অপপ্রচার করেন। তবে সরকার আমাদের সহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, জিডিপিতে ধাক্কা আসতে পারে। আমাদের অধিকাংশ উৎপাদনসামগ্রী চায়না থেকে আমদানি করে থাকি। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন। সামনে দুটো ঈদ। উৎপাদনের ম্যাটারিয়েল না পেলে বড় ধাক্কায় পড়তে হবে। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। এই খাতে লাখ লাখ মানুষ জড়িত। ইকুইপমেন্ট পাওয়া দরকার। সরকারকে এখনই কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইসাব সভাপতি মাে. মােতাহার হােসেন খান, সেক্রেটারি জেনারেল মােহাম্মদ মাহমুদ ও ইফসি আহবায়ক এবং ইসাবের পাবলিসিটি সেক্রেটারি জাকির উদ্দিন আহমেদ। তিনদিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপাে (ইফসি) ২০২০ তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, তাইওয়ান, তুরস্ক, ইউএই, পর্তুগাল, স্পেন, পােল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতসহ ২৫টি দেশের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।

 

মােট স্টল রয়েছে ৭৫টি। এক্সপােতে ফায়ার প্রােটেকশন, ফায়ার ডিটেকশন, সিসিটিভি এবং ভিডিও নজরদারি, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, পাবলিক অ্যাড্রেস, রেসকিউ এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টসহ অন্যান্য সর্বশেষ উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের ব্যবস্থা রেখেছেন আয়ােজকরা।


এ জাতীয় আরো খবর