রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

স্মার্টফোনের উত্পাদন ১২ শতাংশ কমার আশঙ্কা

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১২ ১১:৪৭:১৩
image

চীনে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রযুক্তিপণ্য বাজারের চিত্র বদলে গিয়েছে। এ ভাইরাসের কারণে চীন ও চীনের বাইরে মৃত এবং আক্রান্তের সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) স্মার্টফোন উত্পাদন ১২ শতাংশ কমে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে দাঁড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর টেলিকম লিড।

 

ট্রেন্ডফোর্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিলম্বিত কাজ পুনরায় শুরু, কর্মীদের কাজে যোগদানের অনিশ্চয়তা, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কারণে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের উত্পাদন এবং সরবরাহে বিলম্ব ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। চীন স্মার্টফোনসহ অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য উত্পাদনের প্রধান হাব। করোনাভাইরাসের কারণে দেশটির উত্পাদন খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্ প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো তাদের ডিভাইস উত্পাদনের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল।

 

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে তাত্ক্ষণিকভাবে এখন পর্যন্ত সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের বিপত্তি দেখা যায়নি। এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চীনের চুক্তিভিত্তিক স্মার্টফোন উত্পাদন এবং সরবরাহকারীরা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফক্সকনসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এখনো উত্পাদনে ফিরতে পারেনি। এ অচলাবস্থা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে উত্পাদন ঘাটতি দেখা দেবে। ভবিষ্যত্ বাজার পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল ফক্সকনকে আংশিক উত্পাদন কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছে।

 

চীনে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল কর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর জন্য দেশটিতে নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বন্ধ ঘোষণা করে। কর্মীদের বাড়িতে অবস্থানের পাশাপাশি বাইরের দেশের কর্মীদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। অ্যাপল পণ্য উত্পাদনকারী ফক্সকনও একই পথ অনুসরণ করে। ফলে আইফোন উত্পাদন ব্যাহত হয়। অ্যাপল চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৪ কোটি ১০ লাখ ইউনিট আইফোন উত্পাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা পূরণ সম্ভব হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে। চীনভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৪ কোটি ২৫ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, যা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বের বৃহত্ স্মার্টফোন নির্মাতা স্যামসাংয়ের ডিভাইস উত্পাদনে করোনাভাইরাসের প্রভাব সবচেয়ে কম পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে চীনে তাদের একাধিক উত্পাদন কারখানা বন্ধ করেছে। স্যামসাংয়ের প্রধান উত্পাদক দেশ এখন ভিয়েতনাম। চীনের স্মার্টফোন বাজারে স্যামসাংয়ের দখল মোটে ২ শতাংশ। তাই স্যামসাংয়ের ডিভাইস ব্যবসায় করোনাভাইরাসের প্রভাব কিছুটা হলেও কম। তবে স্যামসাং ডিভাইসের কিছু উপাদানের প্রধান উত্স এখনো চীন। স্যামসাং ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন উত্পাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

 

চীনভিত্তিক শাওমির বড় বাজার এখন ভারত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ বাজারটিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে শাওমি। চীনে এ ব্র্যান্ডের বাজার দখল ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। করোনাভাইরাসের কারণে শাওমির ডিভাইস উত্পাদন কার্যক্রমও প্রভাবিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শাওমি এরই মধ্যে ভারতে ডিভাইস উত্পাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ইউনিট স্মার্টফোন উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শাওমি। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে অপো ও ভিভো যথাক্রমে ২৪ লাখ ১৭ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সব ব্র্যান্ডেরই ডিভাইস উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

চীনে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ভাইরাসের কারণে চীনের মানুষের পাশাপাশি দেশটির প্রযুক্তি খাতও হুমকির মুখে পড়েছে। উত্পাদন হাব হিসেবে পরিচিত চীন যখন হুমকিতে, তখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতও ঝুঁকিতে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনুষ্ঠেয় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) থেকেও একে একে নাম সরিয়ে নিচ্ছে বৃহত্ সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।


এ জাতীয় আরো খবর