বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০

এমএমসিএইচ’এ ক্যাথল্যাব উদ্বোধন নিয়েও প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে চিহ্নিত সেই চক্র

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১২ ০০:২৭:১৪
image

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধন নিয়েও প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে চিহ্নিত সেই চক্র। তারা ফের হাসপাতালে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি ও সুশীল সমাজের নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘ক্যাথল্যাব’ চালু না হলে কর্মসূচি ঘোষণার আভাস দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বহু প্রতিক্ষিত ‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধন এবং হার্টের এনজিওগ্রাম শুরু করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়েছে। সূত্র মতে, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলাসহ ১০ জেলার রোগীদের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতাল নিয়ে প্রায়ই ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ে চক্রটি। ঘাপটি মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা এবার ‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধনকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছেন। অবশ্য প্রতি বারই বুমেরাং হয় তাদের ষড়যন্ত্র। সূত্র মতে, চিহ্নিত চক্রটি পরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার জন্য গত সাড়ে ৩ বছরে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলে বিভিন্ন মহলে ভোগ দিয়েছেন।

 

অপরদিকে ৪৪ বছরকে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই হাসপাতালে গত ৪ বছরের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আধুনিকায়ন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলাসহ ১০ জেলার মানুষের জন্য সু-খবর এনে দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ। আলাদা একটি ইউনিট করে ১ হাজার থেকে ২ হাজার শয্যায় উন্নীত হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ১২ তলার অত্যাধুনিক ২টি ভবন নির্মাণের। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য আধুনিক ওয়ার্ড এবং পুরো হাসপাতালকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ১০ জেলার মানুষ। রোগীবান্ধব এবং দেশসেরা এই হাসপাতালের স্থিতিশীল পরিবেশ রক্ষায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন লাখ লাখ মানুষ। চলছে ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ। বহু প্রতিক্ষিত ‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধনকে পুঁজি করে শুরু হওয়া নতুন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। ষড়যন্ত্রকারীদের ধৃষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। ‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধনের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল শনিবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, ‘ক্যাথল্যাব’ চালু হলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পাবে। ময়মনসিংহেই সম্ভব হবে হার্টের রোগীদের উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসা। এ অঞ্চলের রোগীদের আর ঢাকা এবং দেশের বাইরে যেতে হবে না।

 

‘ক্যাথল্যাব’ উদ্বোধনে বাধা সৃষ্টিকারীরা সরকার এবং রোগীদের ভালো চান না। তিনি বলেন, যারা রমরমা ব্যবসা, অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে ব্যর্থ তারাই পরিচালকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার রক্ষায় এদেরকে প্রতিহত করে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ ভালোই চালাচ্ছেন এই হাসপাতাল। রোগীরা উন্নত চিকিৎসা এবং শতভাগ সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন। কারও কোনো অভিযোগ নেই। দেশসেরা এবং শতভাগ রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এই হাসপাতাল। অন্যদিকে পেশাজীবি ও সুশীল সমাজের নেতারাও অভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, যারা বারবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন তারা মানবতার শত্রু। যেকোনো মূল্যে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। বিক্ষুব্ধ নেতারা সরকারের ভাবমূর্তি খর্বকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

‘ক্যাথল্যাব’ সম্পর্কে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ক্যাথল্যাব চালুর আগেই বিভিন্ন প্রত্রিæয়ায় যারা এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে চান আমি তাদেরকে বলছি- আমার একমাত্র সাহায্যকারী আল্লাহ। ক্যাথল্যাব উদ্বোধন বন্ধ করে দেখুন আল্লাহ আপনাদের অপ-রাজনীতি ধ্বংস করে দিবে। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। জনগণ আমার সাথে আছেন। আমরা ব্যর্থ হলে ক্ষতি হবে দুস্থ এবং সর্বস্তরের রোগীদের। সবার দায়িত্ব ষড়যন্ত্রের হাত থেকে ২ কোটি মানুষের প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা। এ হাসপাতালের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি চলে গেলেও হাসপাতালের স্বাভাবিক গতির জন্য আপনাদের দায়িত্ব আছে। আপনারা সজাগ থাকুন। হাসপাতাল যেন দুর্বুত্তদের আস্তানা না হয়।

 

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। তাদের ভালোবাসায় কাজ করতে সাহস পাই। দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাস বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করছি। পরিবার-পরিজন ছাড়া সেনানিবাসের একটি কক্ষে নীরব ও নিরানন্দ জীবন কাটিয়েছি। আমি রাজনীতি সচেতন মানুষ। প্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি করি না। আমার জন্য যারা সহমর্মিতা জানিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ অপর এক স্ট্যাটাসে বলেছিলেন, বিনয় মানে আমার দুর্বলতা নয়। বিনয় প্রকাশ করি আল্লাহর প্রিয় হতে। হাসপাতাল চালাই গরীব এবং অসহায় মানুষের কথা মনে রেখে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করা হলে অনেকেই রাস্তায় মুখ দেখাতে পারবেন না। হাসপাতাল এবং এই সেক্টর কেন্দ্রিক সকল সুবিধাবাদী লোকদের মুখোশ উন্মোচন করে দিব।

 

জানা যায়, ঘাপটি মেরে থাকা চিহ্নিত চক্রটি হঠাৎ হঠাৎ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। সাড়ে ৩ বছর আগে তাদের প্রথম ষড়যন্ত্র শুরু। তখন ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নেড়ে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে চিহ্নিত হয়েছিলো চক্রটি। লুটেপুটে খেতে অস্থির চক্রের সদস্য সংখ্যা অর্ধশত। নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় স্বাচিপ নেতা, বিএমএ নেতা, জেলা যুবলীগ নেতা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা, বদলি হয়ে যাওয়া কর্মচারী সমিতির নেতা, ওষুধ, সার্জিকেল আইটেম, খাদ্য ও অন্যান্য মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংগঠনের নেতাসহ অনেকেই। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রমরমা ব্যবসা এবং হাসপাতালে বিভিন্ন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত সমর্থক ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে সিন্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। বহু আগেই জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছিলো। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পরিচয়ে কেউ রোগীবান্ধব এই হাসপাতালের পরিবেশ অশান্ত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো।

 

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য সেবায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার পুরোটাই বাস্তবায়ন করে মডেলে পরিণত হয়েছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ। শ্রেষ্ঠ এবং সেরা হাসপাতালের তালিকায় নিয়ে গেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে। ৪ বছর ৩ মাসে হাসপাতালকে ঢেলে সাজিয়ে রোগীবান্ধব করেছেন বিচক্ষণ এ সেনা কর্মকর্তা। শতভাগ ওষুধ এবং নামমাত্র টাকায় এমআরআই, সিটিস্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্সরে, রক্ত ও মলমূত্র পরীক্ষা এবং বিনা টাকায় চলছে বিভিন্ন অপারেশন। এ কারণে বাড়ছে রোগীর চাপ। ১ হাজার শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকছে। বর্হিবিভাগে অন্তত: ৪ হাজার, ইমারজেন্সী ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসে আরও ৪ শতাধিক রোগী সেবা নিচ্ছেন। যোগদানের ৪ মাসের মধ্যে পরিচালক তার মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে হাসপাতালকে অনিয়ম, দুর্নীতি, দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মুক্ত করেন। এতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় চিহ্নিত চক্র। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে জরুরি বিভাগে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করে স্বাস্থ্য বিভাগের নজর কাড়েন মহানুভব এই পরিচালক। ১৬ শয্যার ওয়ানস্টপ সার্ভিসে সকল প্রকার পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ২টি ওটি টেবিল রয়েছে। অর্ধশত রোগী এক সাথে সামাল দেওয়া সম্ভব। রয়েছে ৬ শয্যার ডে-কেয়ার। পরিচালক আইপি ক্যামেরার সহযোগিতায় ওয়ানস্টপ সার্ভিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

 

জানা যায়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সিসিইউতে চালু হতে যাচ্ছে বহু প্রতিক্ষিত ‘ক্যাথল্যাব’। অনেক আগেই কিডনী রোগীদের জন্য অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে শুরু করা হয়েছে ডায়ালাইসিস। সংযোজন করা হয়েছে ১.৫ টেসলা অত্যাধুনিক এমআরআই এবং ১২৮ স্লাইস সিটিস্ক্যান মেশিন। নিউরো সার্জারী ইউনিট খোলার পর এ পর্যন্ত ৭ শতাধিক রোগীর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। হেমাটোলজি ওয়ার্ড, ডায়াবেটিক ও হরমোন ক্লিনিক, ব্লাড পেশার ক্লিনিক ও থ্যালাসামিয়া ক্লিনিক চালু, বর্হিবিভাগের ডেন্টাল ইউনিটে সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। চালু হয়েছে পেসেন্ট ওয়েলফেয়ার সার্ভিস ও রোগীদের ট্রিটমেন্ট বুক। একসেস কন্ট্রোল সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে হাসপাতালকে। আনসার নিয়োগ, রোগী আনা-নেওয়ার জন্য ট্রলিম্যান ও পরিচ্ছন্নতার জন্য মাস্টার রুলে জনবল নিয়োগ দিয়ে কমানো হয়েছে ভোগান্তি। পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে বাড়ানো হয়েছে হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা। ইচ্ছে করলেই কেউ ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারেন না। কর্তৃপক্ষের দেওয়া কার্ড পান্স করে অধিকাংশ ওয়ার্ডে যেতে হয়। আগে ওয়ার্ড থেকে রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া ছাড়াও নানা অঘটন ঘটতো। মহানুভব এ মানুষটি চিকিৎসা সেবার মানে যেমন পরিবর্তন এনেছেন, তেমনি হাসপাতালে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আধুনিকায়ন এবং সার্বিক পরিবেশ পাল্টে দিয়েছেন।

 

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার উপর নির্ভরশীল ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলাসহ ১০ জেলার লাখ লাখ মানুষ। আগে এই হাসপাতাল থেকে রোগীরা খুব একটা সেবা না পেলেও ৪ বছর ৩ মাস থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন। যা স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৪ বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। ৪ বছর ৩ মাসে তিনি অন্তত: ৫০ লাখ মানুষকে চিকিৎসা সেবা এবং শতভাগ ওষুধ প্রদান করে তাদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। যিনি এদেশে সরকারি চিকিৎসা সেবার আমূল পরিবর্তন করে মডেলে পরিণত হয়েছেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোর প্রধানরা এখন তার ব্যবস্থাপণাকে অনুসরণ করছেন। সূত্র মতে, এই হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুরের অধিকাংশ এবং গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও টাঙ্গাইল জেলার আংশিক রোগী চিকিৎসা সেবা নেন। এ কারণেই হাসপাতালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিনগুণ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ আপাদমস্তক ক্যারিশম্যাটিক একজন মানুষ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত। গত ৪ বছর ৩ মাসে শক্তি ও সামর্থের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে পাহাড়সম অনিয়ম, দুর্নীতি ও সঙ্কটে ডুবন্ত এই হাসপাতালকে রোগীবান্ধব এবং দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণীয় করে রাখতে চিকিৎসকদের জন্য নির্মাণ করেছেন নান্দনিক ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’। তাঁর নির্লোভ, নিরহঙ্কারী ও দক্ষ নেতৃত্বে ঘুম ভেঙ্গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আমূল পরিবর্তনের দৃশ্যপট এবং উন্নয়নের চালচিত্র যখন এ সেনা কর্মকর্তার মাথায় সাফল্যের মুকুট পরিয়েছে ঠিক তখনই লুটেপুটে খেতে অস্থির চক্রটি নতুন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে।

 

তাদের উদ্দেশ্য একটাই পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া। ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অনেকেই ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ নিঃসন্দেহে মহান ব্যক্তি। যিনি নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই হাসপাতাল দেশের চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ। নাছির স্যার ময়মনসিংহবাসীর জন্য রহমত ও ফেরেশতার মতো। তিনি ফিরে গেলে আবারও শকুনের হাতে চলে যাবে এই প্রতিষ্ঠান। যারা প্রায়ই তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চালান তারা ভালো মানুষ নন। ময়মনসিংহবাসী কোনো অপতৎপরতার কাছে মাথা নত করেনি এবং কখনও করবে না। কেউবা কমেন্টে লিখেছেন পরিচালকের কারণে এক শ্রেণীর পেশাজীবি ও রাজনৈতিক নেতা, চিকিৎসক, ঠিকাদার, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসীর মালিক এবং দালালরা খুবই অস্বস্তিতে আছেন।

 

জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ নাছির উদ্দীন আহমেদ ময়মনসিংহের আগে ঢাকা সিএমএইচ-এ কর্মরত ছিলেন। রানা প্লাজা ধসে আহত গুরুত্বর রোগী এবং ২০১৫ সালে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অর্ধশত পুলিশ সদস্যকে সরাসরি চিকিৎসা প্রদান করে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেন। ঢাকা সিএমএইচ-এর আধুনিকায়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। ওই সময় সিএমএইচ পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেছিলেন। সূত্র মতে, নাছির উদ্দীন আহমেদ-এর বাবা মরহুম ডা. আব্দুস ছাত্তার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে পরপর ২ বার এমপি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর যে ক’জন ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন তার মধ্যে তিনিও একজন।


এ জাতীয় আরো খবর