শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে চীনগামী ফ্লাইটের যাত্রী

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১১ ১০:৪১:৫১
image

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনে বাংলাদেশীদের ভ্রমণে যাওয়ার হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের অন্তত আটটি ফ্লাইট চলেছে শূন্য যাত্রী নিয়ে। বাকি ফ্লাইটগুলোর অবস্থাও বলতে গেলে করুণ। অন্যদিকে চীনের মালিকানাধীন এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যেসব যাত্রী গিয়েছেন, তারাও মূলত ট্রানজিট যাত্রী। তবে চীন থেকে আসা ফ্লাইটগুলোয় যাত্রী আসছেন গড়ে ৫০ শতাংশ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বাংলাদেশ থেকে চীনে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না সাউদার্ন ও চায়না ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইনস। এছাড়া ড্রাগন এয়ারলাইনস সপ্তাহে চারদিন হংকংমুখী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর বাইরে চীন থেকে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে আসছে আরো পাঁচটি এয়ারলাইনস। ঢাকা-গুয়াংজু রুটে প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। সংস্থাটির বহরে থাকা বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত ফ্লাইটটির একমুখী আসন সক্ষমতা ১৬৪। বিমানবন্দরের তথ্য বলছে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে চলতি মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা-গুয়াংজু রুটে মোট ১৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। পরিপূর্ণ অবস্থায় এ ১৩ ফ্লাইটের মোট যাত্রীসংখ্যা হওয়ার কথা ২ হাজার ১৩২। যদিও এ সময় এয়ারলাইনসটি পরিবহন করেছে মাত্র ১২৮ জন যাত্রী। এর মধ্যে গত ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৯ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ছয়দিন ফ্লাইটটি চীনে গিয়েছে কোনো যাত্রী ছাড়াই। 

 

অন্যদিকে ২১ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুয়াংজু-ঢাকা রুটে পরিচালিত অর্থাৎ বাংলাদেশমুখী ফিরতি ১৩টি ফ্লাইটে ২ হাজার ১৩২টি আসন সক্ষমতার বিপরীতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রী পেয়েছে ১ হাজার ১৫৬ জন। এর মধ্যে গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ফ্লাইট দুটির যাত্রীসংখ্যা ছিল শূন্য। লোকসান হলেও বাংলাদেশীদের স্বার্থেই চীনে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বর্তমানে এয়ারলাইনস ব্যবসা সারা বিশ্বেই চ্যালেঞ্জের মুখে। তার পরও ইউএস-বাংলা মানুষের কল্যাণেই ফ্লাইট চালাচ্ছে। এ ঝুঁকির মধ্যেও ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা বিপুলসংখ্যক যাত্রী দেশে ফিরিয়ে এনেছে, যার ৯০ শতাংশই বাংলাদেশী।

 

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ফ্লাইটপ্রতি গড়ে ১৫ জন করে যাত্রী পরিবহন করছে। এয়ারলাইনসটির ফ্লাইটে ৪ ফেব্রুয়ারি ১৩ জন ও ৫ ফেব্রুয়ারি ১৪ জন যাত্রী ঢাকা ছেড়ে গেছেন। একই অবস্থা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটেরও। ঢাকা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২৮ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ১৭ ও ৩১ ফেব্রুয়ারি ৩১ জন যাত্রী নিয়ে চীনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এয়ারলাইনসটির ফ্লাইট। অন্যদিকে ঢাকা-হংকং রুটের ড্রাগন এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে যাওয়া ফ্লাইটে যাত্রী মিলছে ৬০-৭০ শতাংশ।

 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেহে সুপ্ত অবস্থায় নভেল করোনাভাইরাস থার্মাল স্ক্যানারে শনাক্ত হয় না। তাই যাত্রী আসা বন্ধ না করলে শুধু স্ক্রিনিং করে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন। এ কারণে চীন থেকে যাত্রী আগমন অব্যাহত রাখাটা এ মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ। এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করলেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বিষয়টি পুরোপুরি এয়ারলাইনস সংস্থাগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে সরকার। ফলে চীন থেকে আগত যাত্রীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।

 

ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান বিজকন হলিডেজের সিইও তসলিম আমিন শোভন এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা চীন ভ্রমণে যান, তাদের বেশির ভাগই যান ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। গত কয়েক বছরে পর্যটক ও শিক্ষার্থী হিসেবেও গিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে পর্যটকরা তো চীন ভ্রমণ বাতিল করছেনই, ব্যবসায়ীরাও যাচ্ছেন না।


এ জাতীয় আরো খবর