রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার; স্বপ্নের আবাসনের ঠিকানা

  • Abashan
  • ২০২০-০২-১০ ১৩:৩৭:৩৫
image

‘স্বপ্নীল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নগরীর রেডিসন ব্লুতে চার দিনব্যাপি ১৩তম ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০২০’ উদ্বোধন হয়েছে। চার দিনব্যাপি এ মেলা উপলক্ষে নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচী নিয়েছে রিহ্যাব।


‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০২০’কে কেন্দ্র করে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য সাইকেল র‌্যালি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার স্টেডিয়ামের সামনে এসে শেষ হয়। মেলার দ্বিতীয় দিন ৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) কোমলমতি শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের জন্য ২য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ‘ক’ শাখায় ‘লাল সবুজের বাংলাদেশ’ এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ‘খ’ শাখায় ‘তর্জনীতে স্বাধীনতা’ বিষয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ১০ জন বিজয়ী শিশুকে পুরস্কৃত করা হবে।

 

রাজধানী ঢাকা পরই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর হলো বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সাতটি বিভাগের মধ্যে সৌন্দর্য, বৈচিত্র ও বিশালতায় সমৃদ্ধ। ভূ-প্রাকৃতিক রূপে যেমন এর বিচিত্রতা তেমনি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে রয়েছে চট্টগ্রামের রয়েছে ঐশ্বর্যমণ্ডিত বৈশিষ্ট্য। পাহাড়, সমুদ্রে ও উপত্যকা ঘেরা এ নগরী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত। এ চট্টগ্রাম হলো দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। শুধু বাণিজ্যিক রাজধানীই নয় প্রাকৃতিক অবাধ লীলাভূমি চট্টগ্রাম পর্যটকদের আমন বাড়ছে দিন দিন।

 

চট্টগামবাসীর আবাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা এ পর্যটকদের আবাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব)। চট্টগ্রাম এলাকার আবাসন ব্যবসায়ীদের সর্বোপরি চট্টগ্রাম অঞ্চলের আবাসন খাতকে পরিপূর্ণরূপে সহায়তা দিতে ২০০৬ সালের অক্টোবরে কার্যক্রম শুরু হয় চট্টগ্রাম রিহ্যাব জোনাল অফিসের। এরপর থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামবাসীর জন্য নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগরায়ন রূপান্তরের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে রিহ্যাব।


বাংলাদেশ দারিদ্র্যের শৃঙ্খল থেকে বের হয়ে সমৃদ্ধির পথে সাবলীল নতুন সূচক সৃষ্টি করেছে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সকল ক্ষেত্রেই দেশের অবস্থান সন্তোষজনক। উন্নয়নের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 

বাংলাদেশ আজ অবকাঠামোগত দিক দিয়েও সমৃদ্ধির পথে। আর অবকাঠামোগত সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের বড় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে আবাসন শিল্পের একমাত্র প্রতিষ্ঠান রিহ্যাব। সকলের সম্মিলিত প্রচষ্টায় আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাই হচ্ছে রিহ্যাবের অন্যতম লক্ষ্য। প্রকৃতি কন্যা চট্টগ্রামকে সবুজ নিরাপদ পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সবসময়ই দৃঢ় প্রত্যয়ী।

 

বাংলাদেশের আবাসন সংশ্লিষ্ট শিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সাথে ৩৫ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল ২ কোটি লোকের অন্নের যোগান দিয়েছে। আবাসন খাত নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের সৃষ্টি করছে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। রিহ্যাব সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই আজ শহরগুলোতে স্কাই লাইনের পরিবর্তন হয়েছে। আবাসন খাত এগিয়ে গেলে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা ‘বাসস্থান’ পূরণের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা বিকশিত হবে ফলশ্রুতিতে সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।


সে লক্ষ্যে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আজ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপি ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০২০’র আয়োজন করেছে। এবারের ফেয়ারে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের ৭৩টি স্টল থাকছে। ফেয়ারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসসহ কয়েকটি লিংকেজ প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করেও দেয়া হয়েছে।

 

এ ফেয়ারে প্রথমবারের মত গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ২টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। কো-স্পন্সর হিসাবে অংশগ্রহণ করছে ১৮টি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৬টি, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ১৪টিসহ সর্বমোট ৫৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশগ্রহণ করবে।

 

এবারের ফেয়ার উদ্বোধনী অধিবেশনে শিশুদের বিশেষ চাহিদা পূরণের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা, দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবে। আগত দর্শকদের জন্য লটারির মাধ্যমে প্রতিদিন থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল অপরটি মাল্টিপল। সিঙ্গেল প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা আর মাল্টিপল প্রবেশমূল্য ১০০ টাাকা। মাল্টিপল টিকিট দিয়ে দর্শনার্থী মেলার সময় দর্শনার্থীরা ৪ বার প্রবেশ করতে পারবেন।


এ জাতীয় আরো খবর