বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলন

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০৯ ১৩:৪৪:৪৮
image

ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন ও রেডিও থেকে আগত সাংবাদিক বন্ধুদের স্বাগত জানাচ্ছি। মূলত আসন্ন  ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০ এর সার্বিক বিষয় আপনাদের অবহিত করতেই আমাদের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। এছাড়া এই সংবাদ সম্মেলনে অগ্নিঝুঁকি, নিরাপত্তা ও দেশের সিকিউরিটি ব্যবস্থা ও এর প্রয়োজনীয়তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা

শুরুতে ফায়ার সেফটি এন্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০ এর সার্বিক বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ইলেকট্রনিক্স সেফটি এন্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইসাবের উদ্যোগে এ বছর ৭ম বারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০। যা আগামী ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রæয়ারি-২০২০ বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুন্সী, এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রি: জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন, এনডিসি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। 


তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০ এর ৭ম আসরে বরাবরের মত আমাদের কো-পার্টনার বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স। সহযোগী পার্টনার র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান-র‌্যাব, এনএফপিএ-ইউএসএ, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ, বেসিস, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, ফায়ার ফাইটিং ইকিউপমেন্ট বিজনেস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পাইপ এন্ড টিউবওয়েল মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। 


এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, তাইওয়ান, তুরস্ক, ইউএই, পর্তুগাল, স্পেন, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতসহ ২৫টি দেশের বিভিন্ন ব্রান্ডের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সরঞ্জাম পণ্য প্রদর্শন করা হবে। এক্সপোতে মোট স্টল থাকবে ৭৫টি।


ইফসি-২০২০ তে ফায়ার প্রোটেকশন, ফায়ার ডিটেকশন, সিসিটিভি এবং ভিডিও সার্ভিলেন্স, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমসহ, রেসকিউ এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর অন্যান্য আধুনিক 


প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। তিন দিন ব্যাপি ইভেন্টটিতে সর্বশেষ প্রযুক্তি, পণ্য, নেটওয়াকিং এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা, প্রতিযোগিতামূলক পণ্য পেতে এবং উপযুক্ত সরবরাহকারীদের সাথে পরিচিতি লাভের একটি সর্বোত্তম প্লাটফর্ম। আমাদের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারী এবং নির্মাতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করে এর মাধ্যমে অগ্নি নিরাপত্তা, নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট ও সেবা বাজার আরও বেশি সহজলভ্য করা, যাতে নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি আগুনের ভয়াবহ বিপদ থেকে দেশ ও জাতি সুরক্ষিত থাকে । অন্যদিকে, এই প্রদর্শনীতে সামাজিক সচেতনতাও নিশ্চিত করবে। এই আয়োজনটিতে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক নির্মাতাগণের, ব্যবসায়ী এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেটারদের কাছ থেকে আশা ব্যাঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।


প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা
এবারে প্রদর্শনীতির পাশাপাশি চারটি বিশেষ সেমিনার থাকবে। “Budget-Fire Safety & Security এই শিরোনামে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে মেলার প্রথম দিন বেলা ০৩.০০ টায়। একই দিন বিকেল ০৪.৩০ টায় অনুষ্ঠিত হবে “ÒDigital Bangladesh and Smart City” শীর্ষক সেমিনার। মেলার সমাপনী দিন সকাল ১০.৩০টায় “ÒFire Safety Issues in Bangladesh: Challenges & Way Forward” শিরোনামে বিশেষ রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ০২.৩০টায় অনুষ্ঠিত হবে “Awareness & Importance of AMC (Annual Maintenance Contract) ” ও ০৪.৩০  টায় অনুষ্ঠিত হবে ÒElectrical, Gaseous & Chemical Safety বিষয়ক সেমিনার। সেমিনারও রাউন্ড টেবিলে অংশ নেবেন বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও বিভিন্ন সংস্থার ব্যাক্তিবর্গ। 


মেলার প্রথম দিন বেলা ০২.০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে অগ্নি-নির্বাপনের বিশেষ মহড়া। যার নেতৃত্ব দিবেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেইনেন্স) জনাব লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান, পিএসসি। সম্মানিত দর্শনার্থী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ছাড়াও এই মহড়ায় উপস্থিত থাকবেন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। 


এবারে মেলার বিশেষ আকর্ষণ “ইসাব সেফটি এক্সসিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২০”। বাণিজ্যিক, শিল্প ও আবাসিকএই তিনটি ক্যাটাগরীতে মোট ৯ প্রতিষ্ঠানকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে হাতে নেয়া এ কার্যক্রমের পুরস্কার মেলার দ্বিতীয় দিন রাত ০৮.০০ টায় নির্বাচিতদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রি: জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন ও র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজির আহমেদ, বিপিএম (বার)। 


২০১৯ সালের এক্সপোতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল ৮০০০ হাজার। এই ধারাবাহিকতায় এবারের এক্সপোতে আমরা ১০,০০০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছি। দর্শনার্থীরা নাম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কোন ধরণের ফি ছাড়াই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে আমরা অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা করছি যা আগামী দিনে অব্যহত থাকবে।


প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা
এবারে অগ্নিঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। ২০১৯ সালে চকবাজারের চুরিহাট্টা, ভাষানটেক বস্তি, বনানীর এফআর টাওয়ার, কেরাণীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানা বা গাজীপুরের ফ্যান তৈরি কারখানার আগুনের ঘটনা বিষাদময় করেছে সবাইকে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে ২০১৯ সালে ছোট বড় মিলিয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে মোট ২৪০৭৪টি। এতে নির্মম মৃত্যু হয়েছে ১৮৫ জনের আর আহত হয়েছেন ৫৮৬ জন। সম্পদহানী হয়েছে ৩৩০ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৪ টাকার। মানবসম্পদ ও অর্থসম্পদের এই বিশাল ক্ষতি অপূরনীয়। 


ক্রেতাদের চাপে তৈরি পোশাক শিল্পে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেও এর ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষ হওয়া জরুরী বলে আমরা মনে করি। এছাড়া অন্যান্য শিল্প কারখানা সুউচ্চ ভবন থেকে শুরু করে বাসাবাড়িসহ সর্বত্রই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা সময়ের দাবি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা

বর্তমান সরকারের অন্যতম সেরা উপহার ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ জীবন উপহার দেয়াই যার প্রধান লক্ষ। এর সুফলও মিলেছে। তবে আধুনিক সিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরালে ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছেনা বলেই আমরা মনেকরি। সিলেট ও চট্টগ্রাম সিটিতে স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিলেও জনবহুল রাজধানীতে এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়নি। এ কার্যক্রম সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করলে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন সহজ হবে, তেমনি নাগরিকরাও পাবেন নিরাপদ জীবন। তাই রাজধানীসহ দেশের সর্বত্রই সিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার  করে একটি সুরক্ষিত দেশ তৈরির পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার এই পথে অগ্নি নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিতে সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে।  

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা

পরিশেষে সবাইকে ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-ইফসি-২০২০ এ অংশ গ্রহণের আহŸান জানিয়ে এবং এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ গ্রহণের জন্য ইসাব ও ব্যক্তিগত ভাবে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সবার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করছি। 

মো. মোতাহার হোসেন খান
প্রেসিডেন্ট
ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইসাব


এ জাতীয় আরো খবর