শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

মানসম্মত চা উৎপাদনে শীর্ষ ৬ বাগানের ৩টিই ব্র্যাকের

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০৮ ১৬:৫৭:৩৭
image

২০১৯-২০ মৌসুমে ৩৭টি নিলাম পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামে চা বিক্রি করেছে ব্র্যাকের মালিকানাধীন খৈয়াছড়া ডালু চা বাগান। এ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ছয় বাগানের তিনটিই ব্র্যাকের। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে চা উৎপাদন ও নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে আধিপত্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

নিলাম মৌসুমের ৩৮টি নিলাম এরই মধ্যে শেষ করেছে চা বোর্ড। এর মধ্যে ৩৭টি নিলামের শীর্ষ ২০ বাগানের মধ্যে প্রথম অর্থাত্ শীর্ষে রয়েছে খৈয়াছড়া ডালু। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্লিভডন বাগান, তৃতীয় মধুপুর বাগান, চতুর্থ কর্ণফুলী বাগান, পঞ্চম চান্দপুর বেলগাঁও বাগান ও ষষ্ঠ কোদালা চা বাগান। সবচেয়ে বেশি দামে চা বিক্রি করা শীর্ষ ছয় বাগানের মধ্যে তিনটিই দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের। এগুলো হলো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খৈয়াছড়া ডালু, কর্ণফুলী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা চা বাগান। তিনটি বাগান যথাক্রমে কেজিপ্রতি ২৯৮ দশমিক শূন্য ৫ টাকা (খৈয়াছড়া), ২৬২ দশমিক ৮৯ টাকা (কর্ণফুলী) এবং ২৩৫ দশমিক ৯৯ টাকা (কোদালা) গড় দামে উৎপাদিত চা নিলামে বিক্রি করেছে।

 

দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ও প্রডিউস ব্রোকার্সের নিলাম প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৩৭তম নিলাম পর্যন্ত খৈয়াছড়া ডালু ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪১২ কেজি চা বিক্রি করেছে। এছাড়া কর্ণফুলী চা বাগান ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৩২৬ কেজি এবং কোদালা চা বাগান বিক্রি করেছে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৩০ কেজি চা। শীর্ষ ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্লিভডন ২৮৮ দশমিক ৩৭ টাকা গড় দামে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৬৪৩ কেজি, তৃতীয় মধুপুর চা বাগান ২৬৯ দশমিক ২০ টাকা কেজি দরে ৯ লাখ ৭ হাজার ২৩৬ কেজি, পঞ্চম চান্দপুর বেলগাঁও ২৫২ দশমিক ৯৭ কেজি দরে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৫২ কেজি চা বিক্রি করেছে।

 

শীর্ষ ২০-এর মধ্যে সপ্তম দিলদারপুর বাগান ২২৩ টাকায়, অষ্টম আমরাইল ২২১ টাকা কেজিতে, নবম দারাগাঁও ২১৮ টাকা, দশম নেপচুন ২১৫ টাকা, ১১তম বালিচেরা ২১২ টাকা, ১২তম ফুলতুল্লাহ ২১১, ১৩তম ডিনস্টোন ২১০ টাকা, ১৪তম শ্রীবাড়ী ২০৯ টাকা, ১৫তম লুংলা ২০৮ দশমিক ৮৫ টাকা, ১৬তম লস্করপুর ২০৮ টাকা, ১৭তম জেরিন ২০৫ টাকা, ১৮তম মির্জাপুর ২০৪ টাকা, ১৯তম মণিপুর ২০৩ টাকা এবং ২০তম গাজীপুর ২০২ টাকা গড় কেজি দরে চা বিক্রি করেছে।

 

জানতে চাইলে খৈয়াছড়া চা বাগানের ম্যানেজার মো. বেলায়েত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ২০১৯ সালে দেশে চা উৎপাদন রেকর্ড করেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের অধিকাংশ বাগানই ভালো চা উৎপাদন করেছে। তবে ব্র্যাকের সবগুলো বাগানেই নিজস্ব ভূগর্ভস্থ সেচ সিস্টেম থাকায় বৃষ্টিহীন সময়েও চা উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ কারণে ভালো মানের চায়ের পাশাপাশি উৎপাদনও আগের বছরের চেয়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ব্র্যাকের বাগানগুলো প্রতি বছর শীর্ষ দশের মধ্যে থাকে বলে মনে করছেন তিনি। 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ উৎপাদন বছরে খৈয়াছড়া ডালু আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন করেছে। এছাড়া কর্ণফুলী ১৪ শতাংশ ও কোদালা চা বাগান আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি চা উৎপাদন করেছে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব সেচ সিস্টেম উন্নত থাকায় দেশের নিলামে প্রতি বছরই ভালো মানের চা সরবরাহ করে ব্র্যাক।

 

প্রসঙ্গত, প্রতিটি বর্ষে ৪৫টি পর্যন্ত চায়ের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে ২০১৯-২০ মৌসুমে ৩৮টি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ১৬৬ বছরের ইতিহাসে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৭০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হওয়ায় নিলাম সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৭টিতে উন্নীত করা হয়।


এ জাতীয় আরো খবর