রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০

এবার শাহ আরেফিন টিলায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০৬ ১৫:১০:১০
image

প্রায় প্রতিদিন অভিযান চালিয়েও সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে পাথর উত্তোলন করছে দুর্বৃত্তরা। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি নিয়মিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে শ্রমিকের। তাই রাতের আঁধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে এবার কোয়ারিতে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে গত সোমবার জেলা প্রশাসক ববাবর লিখিতভাবে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর আগে গত রোববার ওই টিলার গর্ত থেকে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য বলেন, পাথরসম্পদে ভরপুর ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন ও কালাইরাগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কোয়ারির গর্তের মালিকরা ভিন্ন পন্থায় পাথর উত্তোলন করছেন। দিনে টাস্কফোর্সের অভিযান চলায় রাতে  শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ কারণে একের পর এক গর্ত ধস ও শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই রাতের আঁধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ফাঁড়ি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান তিনি। ইউএনও আরো বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আগ পর্যন্ত কোয়ারি এলাকায় টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার কোয়ারিতে চারটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১টি গর্তে পানি ছেড়ে ভরাট করা হয়।

 

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে ইউএনওর একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের ফলে পাথর কোয়ারিগুলোর পরিবেশ ও আশপাশের জনবসতি হুমকির মুখে পড়ায় ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া এই পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তার আগে থেকে কোয়ারিতে বোমা মেশিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উচ্চ আদালতের। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা মানছেন না পাথর ব্যবসায়ীরা। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে প্রায় ১৩৮ একরের বিশাল শাহ আরেফিনা টিলার প্রায় পুরোটাই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। পাথর উত্তোলন করতে টিলার মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় গর্ত।

 

এসব গর্তে মাটি চাপা পড়ে নিয়মিত মারা যাচ্ছেন শ্রমিক। সর্বশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ এলাকার একটি গর্ত থেকে রুবেল মিয়া (২৪) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২০ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় মাটি ধসে মারা যান এক শ্রমিক। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) তথ্যমতে, ২০১৭-এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলোতে পাথর উত্তোলনকালে ১২ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এছাড়া গত তিন বছরে শাহ আরেফিন টিলায় ২৬ জন ও জাফলংয়ে ২১ জন মারা যান।

 

অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দিতে পাঁচ, কানাইঘাটের বাংলাটিলায় ছয় এবং লোভাছড়া ও উতমাছড়ার পাথর কোয়ারিতে পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান চার শ্রমিক।


এ জাতীয় আরো খবর