শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২০

২০০ বৃক্ষের সঙ্গে নিষ্ঠুরতা!

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০৪ ১১:০৯:৪৪
image

এ কেমন নিষ্ঠুরতা। হাওরপাড়ের সড়ক থেকে অকারণে প্রায় ২০০ ছায়াবৃক্ষ কর্তন করলো দুর্বৃত্তরা। জেলার বৃহত্তম শনির হাওরের কূল ঘেষে যাওয়া সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর-চিকশা অংশে গত প্রায় ২০ বছরে এই ছায়াবৃক্ষগুলো বেড়ে ওঠেছিল। গত ৩ দিনে এগুলো কেটে সাবাড় করা হলো। গাছগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসলো না কেউই!


সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর থেকে চিকশা অংশে প্রসস্তকরণ কাজ চলছে। প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে অল্প কয়েকটি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করেছিল সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বনবিভাগ। কিন্তু গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে রাতে সড়কের পাশে থাকা সবগুলো গাছই কেটে নেওয়া হলো।


সোমবার সকালেও এই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, গাছ কাটছে দুই ব্যক্তি। ছবি ওঠানোর জন্য ক্যামেরা তাক করতেই সড়কের ঠিকাদার সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার জামিল ইকবাল কন্সট্রাকসন’এর ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদ বলছিলেন, ‘এই গাছ কাটবে না, তাড়াতাড়ি যাও এখান থেকে।’ সঙ্গে সঙ্গে দৌঁড়ে পালালো দুই ব্যক্তি। সড়কে থাকা অন্যান্য শ্রমিকদের জিজ্ঞেস করেও ওই বৃক্ষ কর্তনকারীদের পরিচয় পাওয়া গেল না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল কন্সট্রাকসনের সাইড ম্যানেজার আব্দুল ওয়াহিদের বাড়ি আনোয়ারপুর-চিকশা সড়কের পাশের বালিজুরি গ্রামে। এতোগুলো বৃক্ষ কেটে নেওয়া হলো, আপনারা কাউকে জানালেন না, বাধাও দিলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল ওয়াহিদ বলেন,‘বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে- রাতে ওই গাছগুলো কাটা হয়েছে। ওই সময় সড়কের কাজ বন্ধ ছিল। আনোয়ারপুর গ্রামের রাজনীতিবিদ মিলন কান্তি দাস ও বাবুল মিয়া বিষয়টি ফোনে জানিয়েছিলেন। আমি পরে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী ওসমান মিয়াকে জানিয়েছি।


আব্দুল ওয়াহিদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই সড়কে শ্রমিক হিসাবে যারা কাজ করছে, এদের মধ্যে হোসেনপুর ও দক্ষিণকূলের কিছু শ্রমিক গাছ কেটে নিয়েছে।


চিকশা গ্রামের ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, ২০০১ সালে সড়ক হবার পরপরই এই গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিছু গাছ মরে গেছে। যে গাছগুলো সড়কে ছিল, তা পথচারীদের ছায়া দিতো। শনির হাওরের তীরঘেষা সড়কে থাকা গাছগুলো হাওরেরও অনেক উপকারে আসতো। প্রখর রোদে এই গাছগুলো ছাড়া ছায়া দেবার কিছুই নেই।


পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু বললেন,‘এমন নিষ্ঠুর কাজ যারা করেছে, তাদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজনা, শনির হাওরের পাড়ে যেখানে এই ছায়াবৃক্ষ ছিল, ওই এলাকায় কোন বাড়ীঘরও নেই। পথচারী কিংবা হাওরের প্রাণিকূলের জন্য এগুলো থাকা জরুরি ছিল।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওই সড়কের দেখভালকারী প্রকৌশলী ওসমান মিয়া বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য এই গাছগুলো কাটার প্রয়োজন নেই। নিষ্ঠুরতা দেখে আমি নিজেও অবাক হয়েছি। বন কর্মকর্তাকে আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


বনবিভাগের তাহিরপুর বনবিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বীরেন্দ্র কিশোর রায়’এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,‘গাছগুলো বনবিভাগের লাগানো নয়। তবে সরকারি সড়কের সকল গাছের মালিকই সরকার। সড়কে কাজ করার সময় কয়েকটি গাছ কাটার জন্য বলা হয়েছিল। আমরা সেগুলো চিহ্নিত করেছিলাম। অন্য গাছ কারা কাটলো জানি না। সড়কের উন্নয়ন কাজ যারা করছে, তাদেরও দায়িত্ব ছিল গাছগুলো দেখে রাখার।


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজেন ব্যানার্জী বললেন, এভাবে এতগুলো গাছ কাটা কোনভাবেই ঠিক হয় নি। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সদুত্তর পাওয়া যায় নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। একই মন্তব্য করলেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল।


তাহিরপুর থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, আনোয়ারপুর-চিকশা সড়কে অনেকগুলো গাছ কোনো কারণ ছাড়াই কাটা হয়েছে শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি আমরা। ওখানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এই বিষয়ে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেন নি।


এ জাতীয় আরো খবর