মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২০

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাঁটা...

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০২ ১১:২৪:০১
image

প্রবাদে আছে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকে না। আর অসুস্থ শরীরে কোনো কাজেও মন বসানো যায় না। সুস্থ থাকার গুরুত্ব যে কতখানি, তা কেবল অসুস্থ হলেই টের পাওয়া যায়। তাই সবার আগে চাই সুস্থ শরীর

 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চরক্তচাপ হ্রাস করতে, ওজন কমাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে অর্থাৎ সর্বোপরি সুস্থ থাকতে হাঁটা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। হাঁটার মধ্য দিয়ে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা এড়িয়ে চলা যায়। আপনি যদি প্রতিদিন ৩০ মিনিট ধরে হাঁটেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের থেকেও দূরে থাকতে পারবেন।

দ্য ডক্টর অন ডিমান্ট ডায়েটের লেখক ডা. মেলিনা বি জাম্পোলিস বলেন, হাঁটা আমার বেশির ভাগ রোগীর জন্য এক নম্বর প্রস্তাবিত অনুশীলন। এটা খুব সহজ এবং একজোড়া জুতা ছাড়া এখানে আর কিছুই লাগে না। অথচ হাঁটার দুর্দান্ত মানসিক ও শারীরিক সুবিধা রয়েছে। প্রতিদিন ৩০ মিনিটের বেশি হাঁটা শুরু করলে আপনি অনেকগুলো স্বাস্থ্য সুবিধা আশা করতে পারেন।

 

মানসিক অবস্থা উন্নত করে

ডা. জাম্পোলিস বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত হাঁটাচলা স্নায়ুতন্ত্রকে এতটাই সংশোধন করে যে আপনার রাগ ও বৈরিতা কমে যাবে। বিশেষ করে যখন আপনি সবুজ গাছপালার মধ্য দিয়ে বা শীতকালীন সময়ে হালকা রোদে হাঁটবেন তখন এটা হতাশা দূর করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া হাঁটাকে যখন আপনি সামাজিক করে তুলবেন অর্থাৎ সঙ্গী, প্রতিবেশী বা বন্ধুর সঙ্গে হাঁটবেন, তখন আপনাদের সম্পর্কগুলো মজবুত হবে এবং এটা আপনাদের আরো সুখী করে তুলবে।

 

ওজন হ্রাসে সহায়ক

হাঁটার ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ হয়ে ওজন হ্রাস করে। যারা স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য হাঁটা দুর্দান্ত একটি সমাধান। ডা. জাম্পোলিস বলেন, আপনি যদি নিয়মিত হাঁটা শুরু করেন, তবে খেয়াল করলে দেখবেন আপনার জামাকাপড় ফিট হতে শুরু করেছে, এমনকি স্কেলের মাপে খুব বেশি না কমলেও। নিয়মিত হাঁটা আপনার শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির ক্রাঞ্চ জিমের প্রশিক্ষক এরিয়েল ইয়াসভেলি বলেন, প্রতিদিন হাঁটাচলা করা শরীরে চর্বি জমা হওয়া রোধ এবং দেহের গঠনকে ইতিবাচক পরিবর্তন করার জন্য প্রতিক্রিয়ামুক্ত সবচেয়ে কার্যকর একটি উপায়। আমার একজন ক্লায়েন্ট প্রতিদিন অফিস থেকে তার বাসায় হেঁটে গিয়ে মাত্র এক মাসে শরীরের ২ শতাংশ চর্বি হ্রাস করতে পেরেছেন। যদিও তার অফিস থেকে বাসার দূরত্ব এক মাইলেরও কম ছিল।

 

দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, হাঁটা আপনার রক্তের শর্করা কমায় এবং ডায়াবেটিসের সামগ্রিক ঝুঁকি হ্রাস করে। ইউনিভার্সিটি অব বোল্ডার কলোরাডো এবং ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির গবেষকরা দেখেছেন, নিয়মিত হাঁটাচলা রক্তচাপকে ১১ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০-৪০ শতাংশ হ্রাস করতে পারে।

দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা সপ্তাহে পাঁচ-সাতদিন ৩০ মিনিট বা তার বেশি হাঁটেন, নিয়মিত না হাঁটাদের তুলনায় তাদের কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ কম ছিল।

 

সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে

আপনি কোনো কাজে আটকে গেছেন বা জটিল সমস্যায় পড়ে চিন্তা করছেন কীভাবে মুক্তি পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে হাঁটা আপনার সৃজনশীলতা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আপনি সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। ডা. মেলিনা বি জাম্পোলিস বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বসে থাকাদের চেয়ে মানুষ হাঁটার সময় সৃজনশীল চিন্তা বেশি করে।

 

জয়েন্টের ব্যথা উপশম করে

হাঁটা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহকে বাড়িয়ে তোলায় আপনার শরীরের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জয়েন্টগুলোর চারপাশের পেশিগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। দিনে কমপক্ষে ১০ মিনিট বা সপ্তাহে ১ ঘণ্টার বেশি হাঁটা বাতের ব্যথা এবং বয়স্কদের অক্ষমতা দূর করতে পারে।

 

ভালো ঘুমে সহায়তা

আপনি যদি নিয়মিত পরিশ্রম করেন, তাহলে আপনি জানেন যে রাতে ভালো ঘুম হবে। এর কারণ পরিশ্রম স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলে। হাঁটা ব্যথা ও স্ট্রেস হ্রাসের পাশাপাশি ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে।

 

দীর্ঘজীবন পেতে সহায়তা

পৃথিবীর ব্লু জোনের মানুষরা ১০০ বছরের বেশি স্বাস্থ্যকর আয়ু লাভ করে। তাদের দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের গোপনীয়তার মধ্যে হাঁটাচলা করা এবং বাইরে বের হওয়া জড়িত। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান জেরিয়াট্রিকস সোসাইটি-তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০-৯০ বছর বয়সের মধ্যে যারা ঘরের বাইরে কাজে যুক্ত ছিলেন বা শারীরিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, তারা বৃদ্ধ বয়সে নিষ্ক্রিয় থাকাদের তুলনায় বেশি দিন সুস্থভাবে বেঁচে ছিলেন। হাঁটা বা সক্রিয় থাকা আপনার প্রিয়জন ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করে, ফলে ওই বয়সে মানসিক সামর্থ্য তৈরি হয়, যা বয়স হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।


এ জাতীয় আরো খবর