শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০

আদালতের নির্দেশের চার বছরেও হয়নি স্থায়ী নিয়োগ

  • Abashan
  • ২০২০-০২-০১ ১০:২৮:৩৮
image

উচ্চ আদালতের নির্দেশের চার বছর পেরিয়ে গেলেও সমাপ্ত প্রকল্পের জনবল স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়নি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। প্রয়োজনীয় শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও জনবল নিয়োগে সংস্থাটি কালক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

 

জানা যায়, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে অপ্রধান শস্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার। দেশের ২৬টি জেলার ২০৪টি উপজেলায় ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, যা শেষ হয় ২০০৯ সালের জুনে।

 

২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সমাপ্ত প্রকল্পের জনবল বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসারে দ্রুত রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই প্রকল্প শেষে নিয়োগকৃত জনবলের চাকরি স্থানান্তর করা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১১ সালে রিটের কয়েক দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিআরডিবি চেম্বার জজের কাছে ছয় সপ্তাহের স্থগিতাদেশ চায়। পরে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ খারিজ করে ওই বছরের ডিসেম্বরে আপিল শুনানির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত রিটকারীদের নিয়োগে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। কিন্তু গত চার বছরেও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেনি বিআরডিবি। রায় বাস্তবায়ন না করায় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিআরডিবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়। এরপর গত বছরের ৫ মে এ বিষয়ে বিআরডিবির দায়ের করা রিভিউ পিটিশনটিও খারিজ করেন আদালত।

 

রিভিউ খারিজের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিবকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম পাটওয়ারী। এদিকে আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করায় তিন সচিবসহ এক অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব এবং বিআরডিবি মহাপরিচালক। গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) উচ্চ আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিআরডিবি মহাপরিচালকের পক্ষে কিছু নথি দাখিল করা হলে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেন।

 

অন্যদিকে সমাপ্ত প্রকল্পের জনবল নিয়মিতকরণের বিষয়ে বিআরডিবির বোর্ডসভায়ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছরের ২৫ অক্টোবর ৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় আদালতের নির্দেশনার আলোকে নিয়ম অনুযায়ী অনুপযুক্ত গণ্য না হলে আবেদনকারীদের বিআরডিবির স্থায়ী পদে আত্মীকরণে জন্য বলা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরও প্রায় ১৪ মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ী করা হয়নি।

 

রিটকারীদের অন্যতম আসাদুল্লাহ মিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পের যেসব জনবল ছিল তাদের বিপরীতে এখনো বিআরডিবিতে পদ খালি আছে। কিন্তু নিয়োগ বাণিজ্য করতে এসব পদে আমাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এমনকি হাইকোর্টের আদেশ মানা হচ্ছে না। আদালত অবমাননা মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

এ বিষয়ে জানতে বিআরডিবির মহাপরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আবদুর রহমান।

 

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আদালতে বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছিল। নথি পর্যালোচনার পর ৩ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।


এ জাতীয় আরো খবর