শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০

বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্বাহীদের আধিপত্য

  • Abashan
  • ২০২০-০১-৩০ ১২:২৬:০৯
image

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কয়েক দশক ধরেই ভারতীয়রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। গুগল, অ্যালফাবেট, অ্যাডোবি কিংবা মাইক্রোসফটের মতো বৃহৎ প্রযুক্তি জায়ান্ট পরিচালিত হচ্ছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্বাহীর নেতৃত্বে। এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শীর্ষ পদে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এমন ১৫ ভারতীয় বংশোদ্ভূত নির্বাহীকে নিয়ে আয়োজনের আজ প্রথম পর্ব—

 

সুন্দর পিচাই

২০১৫ সালের ১০ আগস্ট প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে সুন্দর পিচাইয়ের নাম ঘোষণা করা হয়। গুগলের পাশাপাশি এখন তিনি প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটেরও সিইওর দায়িত্ব পালন করছেন। ৪৫ বছর বয়সী সুন্দর পিচাইয়ের জন্ম ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহরে। তিনি পড়াশোনা করেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) খড়গপুর থেকে। এছাড়া স্ট্যানফোর্ড থেকে এমএস ও হোয়ারটন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। গুগলের হয়ে জনপ্রিয় ক্রোম ওয়েব ব্রাউজার উন্মোচনের পুরো কৃতিত্ব তার। অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম ও ম্যাপসহ গুগলের আরো কয়েকটি জনপ্রিয় পণ্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

সত্য নাদেলা

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সিইওর দায়িত্ব পান ভারতীয় বংশোদ্ভূত সত্য নাদেলা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি দীর্ঘ ২২ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। মাইক্রোসফটের ক্লাউড ও এন্টারপ্রাইজ বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ৪৭ বছর বয়সী সত্য নাদেলার জন্ম ভারতের হায়দরাবাদে। তিনি মনিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করেন। এরপর উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো বুথ স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

 

রাজিব সুরি

১৯৯৫ সালে ফিনল্যান্ডভিত্তিক নকিয়ায় যোগদান করেছিলেন রাজিব সুরি। ২০১৪ সালের এপ্রিলে নকিয়ার সিইও এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার আগে বিভিন্ন পদে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মাইক্রোসফট মোবাইল ডিভাইস ব্যবসা বিভাগ কেনার পর নকিয়ার সিইওর দায়িত্ব নেন রাজিব সুরি। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত নকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্কসের সার্ভিস ব্যবসা বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজিব সুরিও ভারতের পনিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পড়াশোনা করেন। তবে তার ঝুলিতে কোনো পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের রেকর্ড নেই।

 

শান্তনু নারায়ণ

১৯৯৮ সালে বৈশ্বিক পণ্য গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কম্পিউটার সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাডোবি ইনকরপোরেশনে যোগদান করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শান্তনু নারায়ণ। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার (সিওও) দায়িত্ব পান তিনি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে অ্যাডোবি ইনকরপোরেশনের সিইওর দায়িত্ব পান তিনি। ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ইন সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এমবিএ ও বোলিং গ্রিন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

ফ্রান্সিসকো ডি’সুজা

বৈশ্বিক সফটওয়্যার সার্ভিস খাতের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সিইও বলা হয় ফ্রান্সিসকো ডি’সুজাকে। তিনি কগনিজেন্টের সিইও এবং একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য। ১৯৯৪ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কগনিজেন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির সিইওর দায়িত্ব পান তিনি। তার নেতৃত্বে কগনিজেন্টে কর্মিবাহিনী ৫৫ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। ভারতীয় এক কূটনীতিকের সন্তান ফ্রান্সিসকো ডি’সুজার জন্ম কেনিয়ায়। ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট এশিয়া, ম্যাকাও থেকে তিনি বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন স্বাধীন ডিরেক্টর হিসেবে জেনারেল ইলেকট্রিকের পরিচালনা পর্ষদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর