শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে কর্মী সরাচ্ছে গাড়ি নির্মাতাগুলো

  • Abashan
  • ২০২০-০১-২৯ ১৩:০৬:২০
image

উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ার এক মাসেরও কম সময়ে চীনা মূল ভূখণ্ডকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি থেকে কর্মী সরিয়ে নিতে শুরু করেছে গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো। এমনকি দেশটিতে ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে দেয়ার বিষয়েও বিবেচনা করছে কোম্পানিগুলো। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি চীনের অর্থনীতি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খবর সিএনবিসি।

 

ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্বের প্রধান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সিংহভাগই চীনে ভ্রমণ সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করেছে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া সারা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে ম্যানুফ্যাকচারিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো। চলতি সপ্তাহে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর কথা; কিন্তু ভাইরাসের কারণে চীনে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো কারখানা বন্ধের মেয়াদ আরো বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। বিষয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

করোনাভাইরাসটি বিস্তারের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান। শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি জেনারেল মোটরস (জিএম), জাপানের হোন্ডা ও নিশানসহ বেশকিছু গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে। ফরাসি বহুজাতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি পিএসএ গ্রুপ ও হোন্ডা মোটর উহানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে কর্মী প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে। সোমবার হোন্ডা মোটরের এক মুখপাত্র উহানের কাছে একটি কারখানা থেকে ৩০ জন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে জাপানে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।

 

পিএসএ গ্রুপ জানিয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ভিত্তিতে উহান থেকে কর্মী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি শহরটি থেকে ফরাসি নাগরিকদের উড়োজাহাজে ফিরিয়ে নেয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিশান মোটরও উহান অঞ্চল থেকে সিংহভাগ কর্মী ও তাদের পরিবারকে জাপানে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে বলে বিষয়সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিশানের এক মুখপাত্র কর্মী প্রত্যাহার নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করছেন। তবে তিনি জানান, কোম্পানি নিজেদের কর্মী ও তাদের পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এ মুহূর্তে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

চীনে কোনো কার্যক্রম বা কর্মী না থাকলেও সোমবার জাপানের আরেক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটা মোটর পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশটিতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।মার্কিন, ইউরোপীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির কতজন কর্মী চীন থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। করোনাভাইরাসটির দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ডসহ বিশ্বের একাধিক দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে।

 

সাংহাইয়ে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা কোম্পানিগুলোকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির আগে কার্যক্রম চালু না করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কিছুদিন আগেই সাংহাইয়ের কাছে চীনে প্রথম কারখানা চালু করা মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে জিএম। দেশটিতে সবচেয়ে বড় কার্যক্রম রয়েছে কোম্পানিটির। চীনে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ১৫টি অ্যাসেম্বলি কারখানা পরিচালনা করছে জিএম। এর মধ্যে উহানের কারখানায় প্রায় ছয় হাজার কর্মী রয়েছে।

 

চীনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জিএম। একই সঙ্গে কর্মীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে নির্দেশ দিয়েছে। ফোর্ড মোটর, ফিয়াট ক্রাইসলার ও ফক্সওয়াগন আমেরিকাও কার্যক্রম পরিচালনা ও চীনে ভ্রমণ নিয়ে একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

ছুটির কারণে করোনাভাইরাস গাড়ি শিল্পে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নির্ণয় করা অসম্ভব বলে মনে করছেন চীনা পরামর্শদাতা কোম্পানির সিইও মাইকেল দুনে। এ সময় সাধারণত চীনে কার্যক্রম বন্ধই থাকে। পরিস্থিতি অনেকটা বড়দিন ও নববর্ষের মধ্যবর্তী সময়ের মতো বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।


এ জাতীয় আরো খবর